ডা. জাহেদ ইস্যুতে সংসদে জামায়াত এমপির ক্ষোভ, বিবৃতির দাবি

ভারতের দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা এবং যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি থাকার পরও তাঁকে হেনস্থা করার ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর ও জাতীয় মর্যাদার বিষয়ে সংসদে ৩০০ বিধিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বিষয়টিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে অভিহিত করে মহান সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ার পরেও কেন তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতের বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলো, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি অপমানে সেখান থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কোনো ব্যর্থতা কাজ করেছে কি না এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো উচিত।

অবশ্য স্পিকার তাঁর এই বক্তব্যকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করেননি। স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও মাননীয় সদস্য চাইলে এ বিষয়ে পরে একটি নির্দিষ্ট নোটিশ দিতে পারেন এবং তখন নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ভারতের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ সোমবার দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) দিয়ে আগে জানানোর পরও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দেয় এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখে।

পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে ভারতের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আজ সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকায় ফিরে এসেছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে।