নেত্রকোনার মদনে বিধবা নারীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসে ভিকটিমকে মামলা তোলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা না তোলায় বিধবা নারীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়, এমন কি তার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পশ্চিম ফতেপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে ১০ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফতেপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কাছুম আলীর স্ত্রী হাছনা আক্তারকে একই গ্রামের মৃত জাহেদ মুন্সির ছেলে জমশেদ আলী ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ভিকটিম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ১১ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে মদন থানায় জমশেদ আলীকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা থেকে জমশেদ আলী হাজিরা দিয়ে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসেই বিধবা নারীকে মামলা উত্তোলন করার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছেন। এমন কি রাস্তা ঘাটে চলা ফেরা বাধা প্রদান করাসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, গত ২৯ মে ২০২৬ ইং তারিখে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে বসত ঘরের পেছনে গরু গোস্ত গরম করছিলেন বিধবা হাছনা আক্তার । এ সময় সুকৌশলে রান্না ঘরে প্রবেশ করে জমশেদসহ ৩/ ৪ জন। তার গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে হাত মুখ বেঁধে মারপিট করে এমন কি শ্লীলতাহানী করে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির পেছনের ডুবায় চুবিয়ে মারার চেষ্টা করে। তার ডাক চিৎকারে পাশের বাড়ির লোকজন তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি — চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে আসেন। এ থেকেই তিনি তাদের ভয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এমন অভিযোগে ভিকটিম আরও অজ্ঞাত ৩/৪ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এর পর থেকেই তিনি প্রতিদিন থানায় এসে দড়না দিচ্ছেন অভিযোগ শুধু তদন্তই হচ্ছে আর ৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা না নেয়ায় পরিবারটির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছেন এমনকি আতংকে ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন এ সময় তারা আমার নিকট থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে নেয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা হবে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার ঘটনাস্থলে সরজমিন গেলে ভিকমিটকে পানিতে ফেলে দেয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে পানি থেকে উদ্ধারকারী হোসাইন মিয়া বলেন, এ সময় খুব গরম ছিল আমি বাহিরে হাঁটাচলা করতে ছিলাম এর পর একটি চিৎকার শোনতে পাই। প্রথমে আমি ভয় পেয়ে ছিলাম। পরে শুনি কে যেন বাঁচাও বাঁচাও বলে আবার চিৎকার করছেন। পরে আমি এগিয়ে যাই আমিও ডাক চিৎকার শুরু করি। পরে লোকজন এসে উনাকে অজ্ঞান অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করি। কারা এ কাজ করেছে আমি এ বিষয়ে দেখিনি বলতেও পারব না।
ভিকটিমের ছেলে সবল মিয়া জানান,আমরা এখন লজ্জায় সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। তারা খুব শক্তিশালী, তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। আমার মা মামলা করার পর থেকেই তাদের পরিবার বিভিন্ন সময় প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। গত কয়েকদিন আগে মাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করতে চেয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। এখন থানা অভিযোগটি কোন আমলে নেয়নি।
এ ব্যাপারে জমশেদ আলী জানান, জানি না তার সাথে আমি কি দোষ করেছি। আমাকে ও আমার পরিবারকে অহেতুকভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর শিকার করছে। আপনি উনাকে পানিতে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করছিলেন কি না, মামলার হাজিরা দিয়ে মামলা তোলার চাপ দিচ্ছেন কি না এ ব্যাপারে জমশেদ মিয়া আরও জানান, আমি স্বাস কষ্টের রোগী।এই সময় তার ভাগ্নে বউ আমার সাথে বসা ছিল উনার কাছেই বিস্তারিত জানতে পারবেন। মামলা তোলার বিষয়ে যে আমাকে বলা হচ্ছে এটাও মিথ্যা। উনার কাজেই হল কিভাবে আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করতে পারে।
ভিকটিমের ভাগ্নের বউ চম্পা আক্তার জানান, যে সময় ঘটনা ঘটেছে এই সময় জমশেদ মিয়া আমার সাথে বসা। তাকে মারতে যাবে কোন সময়?
ভিকটিম হাছনা আক্তার জানান, আমাকে এক বার এই জমশেদ ধর্ষণের চেষ্টা করে, তার নামে মামলাও করি। এখন আমাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করছে। আমি আজ ১০ দিন হল থানায় অভিযোগ দিয়েছি এর পরেও মামলা হচ্ছে না। জানি না আমি বিচার পাব কি না।
এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: রহিছ মিয়া বলেন, যে ঘটনা ঘটতেছে খুবই নিন্দনীয়। এ সব ঘটনা আমরাও লজ্জিত। যে বা যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এ এস আই খোরশেদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে এসেছি। তারা থানায় না এসে এদিক সে দিক ঘুরছে। বলেন তাদের থানায় আসতে।

মদন থানার ওসি তদন্ত অসীম কুমার দাস জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি নিয়ে ভিটের তদন্তকারী অফিসারের সাথে কথা বলুন।