নেত্রকোনার মদনে ৫ বছরের নিখোঁজ শিশু আরিয়ানের ৪ দিনেও সন্ধ্যান মেলেনি

নেত্রেেকানার মদনে চার দিনেও নিখোঁজ শিশু আরফান ইসলাম আরিয়ানের (৫) সন্ধান মিলেনি। এতে শিশুটির পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের
কাওয়াল্লী বিন্নী গ্রামে নানা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আরিয়ান। নিখোঁজ শিশুটি কেন্দুয়া পৌর সদরের ছকিদারা গ্রামের সানাউল্লাহ মিয়ার একমাত্র ছেলে।
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আরফান ইসলাম আরিয়ানের মা আয়েশা আক্তার চাকুরির সুবাদে চট্রগ্রামে বসবাস করেন।
গত ১৫/ ২০ দিন হয় নানীর বাড়িতে বেড়াতে আসে আরিয়ান। (২৫ ফেব্রয়ারী) বুধবার নানা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মিলেনি। পরিবারটির পক্ষ থেকে তার নানা বুলবুল ২৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার মদন থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়রী করে।
এমনকি ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দলও মগড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজি করলেও কোথাও কোন সন্ধান পায়নি।
তবে পরিবারটির দাবি শিশু আরিয়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। অনেক পূর্ব থেকে গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরুদ্ধ চলছে তাদেরকে দোষারোপ করছে আরিয়ানের পরিবার। এদিকে আরিয়ান নিখোঁজের পর থেকেই পাশের বাড়ির ৭/৮টি পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এমন কি কয়েকটি ঘরের গরু ছাগল সড়িয়েও নিয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে শিশুটির নানি শিখা আক্তার জানান, আমার নাতি গত ১৫/২০ দিন হয় চট্রগ্রাম থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বুধবার আমি বাড়িতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার নানা ভাই আমার পাশে নেই। তাই তাকে খোঁজাখুজি শুরু করি।
এদিক সেদিক ছুটতে থাকলে পরে লক্ষুর বউ আলেছা আক্তার আমার নাতি মিলন বাজারের দিকে গেছে বলে জানায়। পরে আমি এদিকে ছুটে গেলে আর থাকে পাইনি। তবে মগড়া নদীর পাশে গেলে সেখানে তার পড়নের জামা ও প্যান্ট পাই। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, আমি দোষ করতে পারি, আমার অবুঝ নাতি কি দোষ করেছে?
আমার নাতি নদীতে নামতে পারে না, ও এখানে কোন দিন আসেনি। আমার নাতিকে অপহরণ করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদেও শাস্তি চাই আমি এবং আমার নাতিকে জীবিত অবস্থায় ফেরত চাই।
মা আয়েশা আক্তার জানায়, আমি কোন কিছু চাই না, আমার ছেলেকে জীবিত ফেরত চাই। আমার ছেলে ফেরত আসলে আপনেরা সব কিছু নিয়েন নেন। আমার কোন আফসোস থাকবে না। তবু আমার অবুঝ ছেলেকে ফেরত চাই।
এদিকে লক্ষুর বউ আলেছা আক্তার জানায়, তার নাতি কোথায় গেছে আমি শিখা আক্তারকে বলিনি। আমাকে এমনিতেই এসব কথা বলছে। তাদেও সাথে আমাদেও জমি নিয়ে ঝামেলা থাকতে পারে। কিন্ত‘ ওই শিশুটার সাথে কি? আপনাদের পুরুষ মানুষ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, যেহেতু তারা আমাদেও এমন দোষারোপ করতেছে তাই পুরুষ মানুষ বাড়িতে নেই। আমরাত বাড়িতে আছি। শিশু নিখোঁজের বিষয়ে কিছুই জানি না আমরা।
এ ব্যাপারে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান জানান, শিশু নিখোঁজের সন্ধান চেয়ে তার নানা বুলবুল বৃহস্পতিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছে। আমরাও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।




























