বিনা পারিশ্রমিকে সাড়ে ৮’শ কবর খুঁড়েছেন কলারোয়ার ষাটোর্ধ্ব কৃষক মোহাম্মদ আলী

বিত্তশালী বা দারিদ্র হলেই হয় না, প্রয়োজন নিজের ইচ্ছা শক্তি আর সৎ নিয়ত। বিনা পারিশ্রমিকে সাড়ে আটশো কবর খুঁড়েছেন নিজে, মসজিদের জন্য জমি দান করেছেন, গ্রামের অসহায় মানুষের জন্য জমি কিনে বানিয়েছেন কবরস্থান। অথচ তিনি নিজেই তেমন বিত্তশালী নন বরং তুলনামূলক দারিদ্র, পেশায় পুরোদস্তর কৃষক, মাঠের মাত্র ৪/৫বিঘা জমিতে বছরের খোরাকি চলে তার। এমনই একজন মোহাম্মদ আলী। বয়স ৬৫ বছরের মতো। যার নেই কোন উচ্চাকাঙ্খা, নিজেও নন উচ্চাভিলাষী।
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের গণপতিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মৃত তালেবর সরদারের পুত্র। তিনি এখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কবর খনন করেছেন ৮৫৮টির বেশি। পাশাপাশি রমজান মাসজুড়ে বিনা পারিশ্রমিকে মসজিদ ও বিভিন্ন বাড়িতে ইফতারির জন্য খিচুড়ি রান্নাও করে থাকেন।
শুধু তাই নয়, যাদের পারিবারিক কবরস্থান নেই তাদের দাফনের জন্য নিজের টাকায় নিজের গ্রামে প্রায় ৩ কাঠা জমি কিনে কবরস্থান তৈরি করে দিয়েছেন। তার দানকৃত ৫ কাঠা জমিতে তৈরি হয়েছে মসজিদও।
মোহাম্মদ আলী জানান, আনুমানিক ২১/২২ বছর বয়স থেকে তিনি স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ৮৫৮টির মতো কবর খনন করেছেন। এরমধ্যে ৬০৮ টি কবরে দাফনকৃত মৃত ব্যক্তিদের নাম লিপিবদ্ধ করা আছে আর তার আগে আড়াইশো মতো কবর খুঁড়েছেন যেগুলোর নাম সেসময় লেখা হয়নি।
তিনি আরো জানান, অর্ধশত কবর তিনি একাই খুঁড়েছেন। আর বাকী কবর তাকে এক বা একাধিক ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন। নিজ এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে কারো মৃত্যুর সংবাদ পেলে তিনি ছুটে যান কবর খুঁড়তে।
মানুষের উপকার আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে তিনি এ কাজ করে চলেছেন জানিয়ে আরো বলেন, যতদিন শারীরিক সক্ষমতা থাকবে ততদিন এটি করে যাবেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি একজন সাধারণ চাষী। আমার ১ ছেলে ও ১মেয়ে, দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে ও আমি মাঠে অনেক পরিশ্রম করি। ৪/৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে আমাদের বছরের খোরাকি চলে যায়। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আল্লাহ ভালোই রেখেছেন।
এই বয়সেও মোহাম্মদ আলীর নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে শাবল-কোদাল নিয়ে ছুটে চলেন মৃত ব্যক্তিদের কবর খুঁড়তে। নির্লোভ ও সাদাসিধে এই ব্যক্তির যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ইতোমধ্যে লিখিত একটি অনুরোধ পত্রও দিয়েছেন।





























