শিক্ষকের থাপ্পড়ে ক্লাসেই অচেতন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী, হাসপাতালে ভর্তি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষকের থাপ্পড়ে ক্লাসেই অচেতন হয়ে পড়ে রুমানা আক্তার নামে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাখিমারা প্রফুল্ল ভৌমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানকালে এমন ঘটনা ঘটে। ক্লাসের পড়া লিখতে না পাড়ায় তাকে এলোপাতাড়ি মাথায় চড় মেরে আহত করেন সহকারী শিক্ষক অর্পন হালদার অভিযোগ আহত শিক্ষার্থীর।

এমনকি প্রহারের ঘটনায় শিক্ষার্থী রুমানা অসুস্থ হয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেও তার পরিবারকে জানায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আহতের খালাতো বোন একই স্কুলের শিক্ষার্থী বাড়িতে খবর দিলে অভিভাবকরা এসে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জ্ঞান ফেরার পর আহত শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালীন সময়ে ওই শিক্ষক তাকে বাংলা বিষয়ে তিনটি প্রশ্ন লিখতে বলেন। দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেও একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি রুমানা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মাথায় হাত দিয়ে স্বজোরে বেশ কয়েকটি আঘাত করেন শিক্ষক অর্পন। এতে তার মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হয় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

শিক্ষার্থীর আপন খালা এবং উদ্ধারকারী জেসমিন জানান, তার মেয়েও একই স্কুলের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। রুমানাকে মারধরের পর বিষয়টি অভিভাবকদেরও জানানো হয়নি। নিজ মেয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি রুমানা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।
পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ঘটনায় প্রহারকারী শিক্ষকের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।

তবে হাসপাতালের শয্যায় অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত অবস্থায় রুমানা বলেন, তাকে তার অর্পন স্যার মাথায় অন্তত ৪টি জোরে চর মেরেছে। এতে কিছু সময় পর মাথার যন্ত্রণায় সঙ্গা হারান তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে খাতায় ১ নাম্বার পেয়েছে বলে সামান্য মারধর করা হয়েছে বলে জানান অভিযুক্ত শিক্ষক অর্পন হালদার।

তবে পাখিমারা প্রফুল্ল ভৌমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন চন্দ্র কালবেলাকে বলেন, ছাত্রীকে সামান্য প্রহার করার বিষয়টি তার কাছে স্বীকার করেছে অর্পন। কিন্তু কেন করেছেন তার কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মাকর্তা আররাম খান কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীকে ভর্তির পর অক্সিজেন সহ সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে কালবেলাকে জানান, কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার চন্দন দাস।