অফিসে গিয়ে

সাতক্ষীরার নবাগত ডিসিকে জামায়াতের এমপিদের ফুলেল শুভেচ্ছা: মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সাতক্ষীরায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিস কাউসার আজিজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জেলার চার সংসদ সদস্য (এমপি) সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পারস্পরিক সৌজন্য ও জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস হাফিজ রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম।

তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখলেও, অন্য একটি অংশ বিষয়টিকে সাংবিধানিক অবস্থান ও জনপ্রতিনিধির মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

রুলস অফ প্রেসিডেন্সি বা প্রটোকল অনুযায়ী এমপিদের পদমর্যাদা সচিবদের উপরে। আর জেলা প্রশাসকের পদমর্যাদা উপসচিব। সেখানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসককে সাতক্ষীরার চারটি আসনের এমপিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তেমনি ছবিতে দেখা যায় যে, অন্যান্য কর্মকর্তাদের ঠেসে ও পিছনে এমপিরা দাঁড়িয়ে আছেন। বিষয়টি দৃষ্টিকটু বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তিনি জনগণের ম্যান্ডেট বহন করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের নির্বাহী কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সেই বিবেচনায় সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে এমপির অবস্থান প্রশাসনিক কর্মকর্তার ঊর্ধ্বে।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও সৌজন্য বজায় রাখা অবশ্যই প্রয়োজন। জেলার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেই সম্পর্ক এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধির মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে যায়।

অনেকেই মনে করছেন, একজন জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন, আবার নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু একজন এমপি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অংশ। তাই জনপ্রতিনিধিদের আচরণ ও অবস্থানে সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতিফলন থাকা জরুরি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতন্ত্রে প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর কাঠামো হিসেবে কাজ করলেও, রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা আসে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকেই। আর এই ভারসাম্য রক্ষা করাই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম শর্ত।

সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবাসী বাংলাদেশী পিনাকী ভট্টাচার্য তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাদের তিনি লিখেছেন-
চারজন জামায়াতের এমপি গেছে একজন ডিসিরে ফুল দিতে। এরা ওসিরে স্যার ডাকে। এদের মাথাতেই নাই এদেরকে ইমার্জড হইতে হবে ফিউচার লিডার হিসাবে, গভার্নিং পাওয়ার হিসাবে। কিন্তু এরা দিল্লিস্টারে যাইয়া গদগদ হয়, রাষ্ট্রদূত ডাকলে কৃতার্থ হয়।
এদের দেখলে প্রশাসন সরকার সব কাঁপবে। আর এরা করতেছে কি? প্যাথেটিক।