সাতক্ষীরা জেলায় মৎস্যে ক্ষতি ৫৩ কোটি, ১৭ ‘শ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে

নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় সর্বমোট ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জেলার কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৫৯ টি মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে গেছে। সরকারিভাবে ভেসে যাওয়া ঘেরের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। যাতে ক্ষতির পরিমান দেখানো হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এদিকে জেলা কৃষি অফিস বলছে, ভারি বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭শ হেক্টর জমির আমন বীজতলার পানিতে ডুবে আছে। একই সাথে সদ্য রোপনকৃত ৮৬০ হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। এখনি ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব নয় জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, পানি স্থায়ী হলে যে ক্ষতি হবে তা সহসায় কাটিয়ে উঠতে পারবে না কৃষক।

তবে, জেলা ব্যাপী সকল সেক্টরে যে ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে নিরুপন করতে পারেনি বলে স্ব স্ব দপ্তর থেকে জানিয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিসার মো: মশিউর রহমান বলেন, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৫৯ টি ঘের পানিতে ভেসে গেছে। যার আয়তন ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। এতে মৎস্য সেক্টরে ক্ষতি হয়ে ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ৬৯৫ টি ঘেরে ৪ হাজার ১৫১ হেক্টর মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। এ উপজেলায় ভেসে যাওয়া ঘেরে ক্ষতির পরিমান ১৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।

আশাশুনি উপজেলায় ৫ হাজার ৭৯২ টি ঘেরে ৩ হাজার ৫৯১ হেক্টর মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। এ উপজেলায় ভেসে যাওয়া ঘেরে ক্ষতির পরিমান ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
শ্যামনগর উপজেলায় ৬ হাজার ৯৭২ টি ঘেরে ৪ হাজার ৩২৩ হেক্টর মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। এ উপজেলায় ভেসে যাওয়া ঘেরে ক্ষতির পরিমান ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ আঃ বাছেদ জানান, অতি বৃষ্টির কারণে জেলার কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে নিরুপন করতে একটু সময় লাগে। এ বিষয়ে সকল উপজেলায় একযোগে কাজ করছে। রবিবারে মধ্যে সঠিকভাব ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, পানিবন্দি মানুষের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিক ২৫৬ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর এই তিন উপজেলায় ১ লাখ করে মোট ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে/জনদুর্ভোগ লাঘবে অবৈধ নেট-পাটা স্থাপনকারীদেরকে স্ব-উদ্যোগে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি অনেকে নেট-পাকা অপাসারণ করে নিয়েছে। যারা এখনো নেট-পাটা অপসারণ করেনি তারে বিরুদ্ধে আজ শনিবার থেকে সকল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হবে। এতে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জেলায় বিভিন্ন সেক্টরে যে ক্ষতি হয়েছে তার এখনো নিরুপন করা সম্ভব হয় নি। তবে কাজ চলছে। আগামী দুএকদিনের মধ্যে জেলায় ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হবে। তবে, যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পানি বন্ধি জীবন যাপন করছে তাদের জন্য চাল এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান