হাইকোর্টের আদেশের কপি সভাপতিকে দিয়েও দায়িত্ব বুঝে পাননি প্রধান শিক্ষক

হাইকোর্টের আদেশের কপি হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েও দায়িত্ব বুঝে পাননি সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি নিজের কক্ষে তালা দেখতে পান। পরে সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে আদালতের আদেশের কপি তুলে দিলেও রাত পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান তিনি। পরে সাংবাদিকরা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের হাইকোর্টের আদেশের কপি তিনি এখনো হাতে পাননি।

এরপর প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন সাংবাদিক ও অভিভাবক পলাশপোল এলাকায় সভাপতির কার্যালয়ে যান। সেখানে সবার উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজী হাইকোর্টের আদেশের কপি সভাপতির হাতে তুলে দেন।

প্রধান শিক্ষক বলেন, সভাপতি তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের আদেশের কপি হাতে পেলে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী তিনি সবার সামনে সভাপতির হাতে আদালতের আদেশের কপি দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, এরপর সভাপতি সন্ধ্যার পর একজন আইনজীবীকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে বসবেন বলে জানান। কিন্তু রাত ৯টা পর্যন্ত সভাপতি আইনজীবী নিয়ে তাঁর সঙ্গে বসেননি। তাঁকে দায়িত্বও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলাম বলেন, “ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি। স্যারকে বলা হয়েছে, ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা বলে প্রক্রিয়া অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝে নিতে।”

এদিকে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে ক্লাস হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফুচকা খেতে দেখা গেছে বলেও জানান উপস্থিত ব্যক্তিরা। এ সময় তাদের দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের ভেতরের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না।

উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাঁদের দাবি, বিরোধ দ্রুত মীমাংসা করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষক-কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে? নিয়মিত ক্লাস ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।”

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা থাকা এবং হাইকোর্টের আদেশের কপি সভাপতির হাতে তুলে দেওয়ার পরও দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর কক্ষে তালা দেওয়া ও দায়িত্ব বুঝে নেওয়া নিয়ে জটিলতা চলছে।