৪৬ বছর পরে প্রাণ ফিরছে মৃতপ্রায় ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর খালে, খুশির জোয়ারে ভাসছেন হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীয়র কলাপাড়ার আন্ধার মানিক নদী লাগোয়া ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর খাল। ১৯৮১ সালে এই খাল নির্মাণ করেন তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপরে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৬ বছর। যা সময়ের ব্যবধানে পরিচর্যার অভাবে পরিণত হয়েছে প্রায় মৃত খালে। স্থানীয় বাসীন্দারা বলছেন, কৃষিতে অত্যন্ত উপযোগী ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় অতি প্রয়োজনীয় এই খালটি। এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবন ও জীবাকা।
তবে দীর্ঘ কয়েক দশকে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউপির মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা এই খালটির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নানাবিধ সমস্যায় ভুগছিলেন দুই পাড়ের বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ। কিন্তু বর্তমান সরকারের খাল পুর্নখনন প্রকল্পে হাসি ফুটেছে কৃষক,খামারি ও জেলে সহ সব শ্রেণির মানুষের মুখে।
তাই প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা বলছেন, শহীদ জিয়ার সেই খাল খনন কার্যক্রম আবারও ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই খালের ৫.৪০০ কিলোমিটার খনন কাজের মাটি কেটে এর উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। এ সময় করতালিতে উৎসব মুখর পরিবেশে খাল খনন উদ্যোক্তাদের কৃতজ্ঞতা জানান দুই পাড়ের শতা শত মানুষ। আর কোদাল হাতে নারী পুরুষ সম্মিলিত ভাবে খনন কাজে যোগদান করেন।
স্থানীয় বাইশাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিক জানান, দীর্ঘ বছর যাবৎ খালটি প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল। পানি প্রবাহ একেবারে নাই বললেই চলে। এই খালের দুই পাড়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু শুকনা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি সহ বিভিন্ন কাজে সঙ্কট দেখা দেয়।
এছাড়া দীর্ঘতম এই খালের পানিতে মাছ শিকার করে এক সময়ে অনেক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হতো। যা আজ মৃত খালে পরিনত হয়েছে। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে এই খালের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এতে আমরা অনেক খুশি। আমরা সবাই সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘ এই খালের খনন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা।
শুধু খনন কাজেই নয়, ৭০ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট গভীরতার এই খালের খনন প্রক্রিয়া শেষে দুইপাড়ে গড়ে তোলা হবে বৃক্ষ বনায়ন। এছাড়া পানি নিষ্কাশনে রয়েছে কালভার্ট নির্মাণ ও পাইপ স্থাপন ব্যবস্থা।
তবে খাল খনন প্রক্রিয়ার মধ্যেদিয়ে বাংলাদেশ আবার একটা নতুন যুগে পদার্পণ করছে বলে জানান, পটুয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরে নানান সরকার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু তারা কেউই কোন প্রকল্প গ্রহন করেনি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, তিনি খাল খনন করবেন। এবং তিনি তা করে দেখাচ্ছেন। এবং মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে এই খাল খনন প্রক্রিয়া।















