কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সরুয়ার আলম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম আঙ্গুর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, রুহুল আমিন ধনু, সদর উপজেলা সভাপতি সজিবুল ইসলাম সজিবসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “১৯৭২ সাল থেকে এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে আমরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংগঠনিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দীর্ঘ সময় ধরে এটি মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কিন্তু হঠাৎ রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমাদের এমন ঘটনা দেখতে ও শুনতে হচ্ছে, যা জাতি হিসেবে অত্যন্ত লজ্জাজনক।
যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়টি দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত কোনো স্থাপনার ওপর হামলা দেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাতের শামিল। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
পাকুন্দিয়া থানা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
একটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় শুধু একটি ভবন নয়, এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক। সেই স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।
তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় হোক কিংবা কোনো ব্যক্তিগত বা সরকারি স্থাপনা কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং কার্যালয়টি সংস্কার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।






























