স্বাস্থ্যখাতে লুটপাটে সেবা ভেঙে পড়েছিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন অনিয়ম আর অর্থ লুটপাটে ভেঙে পড়েছিল স্বাস্থ্যসেবা। বর্তমান সরকার তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঝটিকা সফরে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিভাগ ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মানও পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অপরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের ব্যবহৃত বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অর্থ লুটপাটে ভেঙে পড়েছিল স্বাস্থ্যসেবা। সেই অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার মান বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও লোকবল নিয়োগ করে স্বাস্থ্য খাতে গতি আনা হবে।’
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগে অনিয়ম ও ফলাফল স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক জেলায় অনিয়ম হয়েছে। সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে চালু ও যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, এমন কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নে কার্যকর কোনো কাজ হয়নি। কাজ করলে জবাবদিহিতা থাকে, কিন্তু মানুষ যেন সেই বিষয়টিই ভুলে গিয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নেতৃত্ব ক্ষমতায় ছিল না। যারা রাতের অন্ধকারে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী আমাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমরা কাজ করছি।’
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামী তিন মাসের মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আশ্বাস দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন এবং সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




























