বন্যায় প্লাবিত রাঙামাটির বিলাইছড়ির জনজীবন বিপর্যস্ত

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম ফারুয়া বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু ফারুয়া বাজার নয়; চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তত্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ সবকটি এলাকা এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া ইউনিয়নে। ঢলের পানিতে পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকানপাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।

ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসি মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। রাইংক্ষ্যং নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় সরাসরি সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গতরাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, অবস্থা ভয়াবহ। ভোর রাত হতে প্রবল বর্ষণে ফারুয়ার নিম্নাঞ্চলের সকল গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। চাইন্দা পাড়া, আলিখিং পাড়া, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর, তক্তানালা দক্ষিন, ওরাছড়ি পুর্ব, ওরাছড়ি পশ্চিম, লত্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি বাঙ্গালাী পাড়া, গোয়াইনছড়ি, ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি, যমুনাছড়ি এসব পাড়াসমূহ ডুবে গিয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংক্ষ্যং নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে নদীতে স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। স্রোতের বেগ কিছুটা কমলেই আমরা বড় আকারে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের কাছে রওনা হব।