কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পাঙ্গাহাট মার্কেট ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নকে সবজির নগরী বলা হয়।এরই লক্ষ্যে ছিনাই ইউনিয়ন এর অধীনস্থ ঐতিহ্যবাহী পাঙ্গা হাটে ২০২৩ সালে একটি আধুনিক কৃষি বিপণন মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির কক্ষগুলো তালাবদ্ধ। কোথাও কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি জমেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল কাদের বলেন,
“সরকার হামার মতো কৃষকের সুবিধার জন্য মার্কেট করছে। কিন্তুু তিন বছর পার হইল এলাও চালু হইল না।হামরা এখনো জমিতেই ফসল বিক্রি করি। মার্কেট খান চালু হইলে পাইকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ হইলে ভালো দাম পাওয়া যাইত

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, “আমরা কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পাই এবং সরাসরি ব্যাবসায়িদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি এই জন্য ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহার না হলে সেই ভবনের কোনো মূল্য নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,
“মার্কেটটি চালু হলে ব্যবসার পরিবেশ ভালো হতো। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির সুযোগ বাড়ত। কিন্তু ভবনটি চালু না থাকায় সরকার যেমন বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে না, আমরাও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো.এজহারুল হক বলেন,এলজিইডির দায়িত্ব ছিল প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা। নির্ধারিত নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনটির প্রাক্কুলান মূল্য ২ কোটি ২৬ লক্ষ্য, এবং চুক্তি মূল্য ১কোটি ৮৫ লক্ষ্য ৬৫ হাজার ৭শত ৭৪ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ভবনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তানতর করা হয়েছে।

এই বিষয়ে, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা তাসনিম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন করেননি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন,
“কৃষি বিপণন কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। পাঙ্গা হাটের ভবনটি কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত পাঙ্গা হাটের কৃষি বিপণন মার্কেট ভবনটি চালু হলে শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীরাই নন, পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি লাভবান হবে। এখন প্রশ্ন একটাই—কোটি টাকার এই ভবন আর কতদিন তালাবদ্ধ থাকবে? উন্নয়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনা কবে কৃষকের বাস্তব উপকারে আসবে, সেটিই এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।