নেত্রকোনার মদনে দেশীয় মাছ কমছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের দাপটে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী রিং জাল বেড়জাল ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দ্রুত কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয়ে যেসব দেশীয় মাছের সমারোহ দেখা যেত, এখন সেই চিত্র অনেকটাই বিরল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জালের নির্বিচার ব্যবহারে শুধু মাছই নয়, জলজ জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, মদন উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় জুড়ে রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল নদ- নদী ও জলাশয়। বর্ষা এলেই এসব জলাশয় পানিতে ভরে উঠলেও আগের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ আর পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রায় এক দশক আগেও স্থানীয়রা ছাঁই, ঠেলা জাল, বড়শিসহ দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ শিকার করতেন। এসব উপকরণে মাছ ধরা হলেও মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশের ওপর তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না।
স্থানীয়রা শুনান, বর্তমানে চায়না তৈরি রিং জাল বেড়জাল ও কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ, রেণু-পোনা এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
মদন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জেলে ও মাছ শিকারি নিজেদের ভোগ ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে কারেন্ট জাল ও বেড়জাল, চায়না রিং জাল ব্যবহার করছেন। এতে মাছের প্রজনন চক্র বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,চায়না রিং জাল বেড়জাল ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জব্দ করা জাল পুড়ে ধ্বংস করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় মহলের দাবি, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর অভিযান, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে খাল-বিল নদী থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ একেবারেই হারিয়ে যাবে।

























