ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে ৮৯ শতাংশ জমির দখল ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নে ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশান উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর মৌজার ৮৯ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে অচিন্তপুর গ্রামের শাহজাহান গংদের সঙ্গে হাসেন উদ্দিন গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ২০১০ সাল থেকে আদালতে মামলা চলমান ছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত শাহজাহান গংদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে রায় প্রদান করেন। বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলেও, তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর জমির দখল বুঝে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর সিভিল জজ আদালতের প্রতিনিধি দল পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিতর্কিত ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান স্থাপনের মাধ্যমে শাহজাহান গংদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জমির মালিকানা ফিরে পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের মৃত নূর হোসেনের ছেলে শাহজাহান, এস্কান্দর, ইজ্জত আলী, একই গ্রামের মৃত রাসেলের স্ত্রী ও সন্তান সেলিনা আক্তার, খাইরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ছাদিয়া, সাইফুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা, মৃত নুর হোসেনের মেয়ে কামরুন নাহার।
জমি হস্তান্তরের সময় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক সারোয়ার হোসেন, ঢুলি জুনাঈদ, গৌরীপুর থানা পুলিশের একটি টীম ও সার্ভেয়ার ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
দখল ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাহজাহান জানান, এই জমি আমার বাবা ক্রয় করেছিলেন। যাদের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন তাদের সৎ ভাই-বোন বেদখল দেয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা এই জমির জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আজ আদালত আমাদেরকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আদালতের জারিকারক সারোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।






























