ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৬৩ কৃতি শিক্ষার্থী পেল শিবিরের সংবর্ধনা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৬৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ পাবলিক হলে গৌরীপুর উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনার ক্রেস্ট তুলে দেন ময়মনসিংহ মহানগর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাকির হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া একজন শিক্ষার্থীর জীবনে নিঃসন্দেহে বড় অর্জন, তবে এটিই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং জীবনের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সূচনা মাত্র। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান। নিজের মেধা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও সঠিক বিষয় নির্বাচনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উপজেলা শাখার সভাপতি সালেহীন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা বদরুজ্জামান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সচিব হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’৭১ হলের ভিপি হাসানুল বান্না, ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির এইচ.আর.ডি সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, ফোকাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর সাবেক পরিচালক এসএম জুবায়ের হোসাইন, অভিভাবক মাওলানা হাফেজ আবু ইউসুফ ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে কী ধরনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল নিয়েও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
আরও বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য নিশ্চিত হয় না। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা, যোগ্যতা ও সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।
আয়োজকরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রাণিত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।