বাসি ও ছত্রাক ধরা মিষ্টি-দইয়ে সয়লাব যশোরের রাজগঞ্জের ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভান্ডার

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভান্ডারে দীর্ঘদিন ধরে বাসি, নষ্ট গন্ধযুক্ত ও ছত্রাক ধরা মিষ্টি এবং দই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানটিতে দিনের পর দিন সংরক্ষণ করা মিষ্টি ও দই নতুন করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
এতে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও দই দোকানে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখার কারণে অনেক সময় সেগুলোতে দুর্গন্ধ ও ছত্রাক দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পচা বা বাসি মিষ্টি ফেলে না দিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন মিষ্টির সঙ্গে মিশিয়ে কিংবা আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
রাজগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ক্রেতা জানান, মিষ্টি কেনার পর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক সময় দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। কোনো কোনো মিষ্টির ওপর ছত্রাকের মতো আস্তরণও দেখা যায়। বিষয়টি দোকান কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
একজন স্থানীয় সচেতন নাগরিক বলেন, “খাবারের মান নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। মানুষ বিশ্বাস করে মিষ্টির দোকান থেকে খাবার কিনছেন। অথচ বাসি বা নষ্ট খাবার বিক্রি করা হলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অসুস্থও হতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি করা প্রয়োজন।”
আরেকজন ক্রেতা বলেন, “পত্রিকায় একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তারপরও যদি একইভাবে বাসি ও নষ্ট মিষ্টি বিক্রি হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—তদারকি কোথায়? দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা দরকার।”
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা এবং ছত্রাক আক্রান্ত মিষ্টি বা দই খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের সমস্যা, বমি, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য নষ্ট খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
একজন বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, “খাবারে ছত্রাক দৃশ্যমান হওয়ার অর্থ হলো সেটি আর নিরাপদ অবস্থায় নেই। শুধু ওপরের অংশ ফেলে দিয়ে বাকি অংশ খাওয়াও নিরাপদ নয়। কারণ ছত্রাকের কিছু ক্ষতিকর উপাদান খাবারের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, মেয়াদ ও মান নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজগঞ্জ বাজারে খাবারের দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যমানের বিষয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে মিষ্টি ও দইয়ের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়া খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রতিদিনের বিক্রির পরিমাণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু অভিযোগ ওঠার পর অভিযান চালালেই হবে না; বাজারের মিষ্টির দোকানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং বাসি-নষ্ট খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও মিষ্টি ও দই কেনার আগে গন্ধ, রং, স্বাদ ও খাবারের স্বাভাবিকতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন রাজগঞ্জ বাজারের সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























