মণিরামপুর ও রাজগঞ্জে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ‘জেলি পুশ’ চিংড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় উদ্বেগ

যশোরের মণিরামপুর ও রাজগঞ্জ বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে কথিত ‘জেলি পুশ’ করা চিংড়ি। চিংড়ির শরীরে জেলি বা পানি জাতীয় পদার্থ ঢুকিয়ে ওজন বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অজানা উপাদান শরীরে প্রবেশের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও করছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বাজার ঘুরে কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক চিংড়ির তুলনায় কিছু চিংড়ি অস্বাভাবিকভাবে ভারী ও ফুলে থাকা অবস্থায় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব চিংড়ি রান্নার সময় অতিরিক্ত পানি বের হওয়া এবং মাংসের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ক্রেতারা।

রাজগঞ্জ বাজারে চিংড়ি কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, “চিংড়ি দেখতে ভালো ও বড় মনে হওয়ায় কিনেছিলাম। কিন্তু বাসায় নিয়ে রান্না করার সময় প্রচুর পানি বের হয়। খাওয়ার পরও স্বাভাবিক চিংড়ির মতো মনে হয়নি। এখন বাজারের চিংড়ি কিনতেও ভয় লাগে।

আরেক ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। চিংড়ির ভেতরে কিছু ঢোকানো হয়েছে কি না, তা বোঝার উপায় আমাদের নেই। বাজারে যদি এমন চিংড়ি বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।”

তবে স্থানীয় এক চিংড়ি বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা আড়ত থেকে যে চিংড়ি কিনি, সেটিই বাজারে বিক্রি করি। চিংড়িতে কোনো কিছু পুশ করা হয় কি না, তা আমাদের জানা নেই। তবে কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্য এক বিক্রেতা বলেন, “ক্রেতারা এখন চিংড়ি নিয়ে নানা প্রশ্ন করছেন। ভালো চিংড়ির সঙ্গে খারাপ চিংড়ি মিশে গেলে আমাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। প্রশাসন বাজারে পরীক্ষা করলে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, চিংড়ির ওজন বাড়াতে খাদ্যোপযোগী নয় এমন কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হলে তা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “একজন ভোক্তা হিসেবে আমরা নিরাপদ ও সঠিক ওজনের খাবার কেনার অধিকার রাখি। চিংড়ির ওজন বাড়ানোর জন্য যদি কোনো ধরনের জেলি বা অন্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে। তাদের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার পরিদর্শন এবং সন্দেহজনক চিংড়ি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।

ভোক্তাদের দাবি, শুধু বিক্রেতাকে দায়ী না করে চিংড়ি কোথা থেকে বাজারে আসছে, সরবরাহকারী ও আড়ত পর্যায়ে কীভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে-সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে পরীক্ষায় জেলি বা অন্য কোনো অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও বাজারে চিংড়ির নমুনা পরীক্ষা করা হলে ‘জেলি পুশ’ চিংড়ি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।