কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার ২ জনের মৃত্যু, লাশের অপেক্ষায় স্বজনরা

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবারে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)।
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন স্বজনদের একটাই আকুতি—দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক তাদের লাশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে নিজ হাতে দাফন করতে চান তারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বড় ভাই সাহেব সরদার, ভাবিসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান তিনি। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ৫ থেকে ৬ দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে লাশের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের লাশ যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেওয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।
এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত রেবতী সরকারের বাড়ি তেঁতুলিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় পুরো বাড়িজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা।
আগস্ট) রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারাও বর্তমানে ভারতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে লাশ দুটি দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
























