জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কমিটি ও দাতার ওয়ারিশের দ্বন্দ্বে সেবামূলক সংস্হার কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে একটি সমাজসেবী সংস্থা ও জমি দাতার ওয়ারিশের দ্বন্দ্বে সংস্হার ভেঙে পড়া ঘর পুনঃনির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সেবা মুলক স্বাভাভিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে সংস্হার পরিচালক মশিউর রহমান পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের সোনাপুুর গ্রামের কয়েকজন সমাজসেবী যুবক স্হানীয় আদিবাসী মৃত লক্ষ্মণ উড়াও এর পুত্র জগন্নাথ উড়াও এর নিকট থেকে ১৯/১১/৮৬ সালে ১ শতক এবং চন্দ্র নায়েকের পুত্র বরেন নায়েকের নিকট থেকে ১৩/৮/৯৮ সালে হাফ শতক জমি দান কবলা মুলে গ্রহন করে সোনালী সংঘ নামে একটি জনকল্যান মুলক সংস্হা প্রতিষ্ঠা করেন।

যার দাগ নম্বর ৬৭১ ও ৬৭২। ১০/০২/২১ সালে জমিটি সোনালী সংঘের নামে খাজনা খারিজও করেন তারা। পরে ২১/৭/৮৭ সালে সংস্হাটি সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীন জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন করেন (নম্বর পাঁচ ১২/৮৭)।

সংস্হার পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর একটি মাটির ঘরে অফিস করে সমাজসেবা অধিদপ্তর, এনজিও ফাউন্ডেশন ও নিজেস্ব অর্থায়নে দুঃস্ত মানুষের পানীয় জলের ব্যবস্হা, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান, ধাত্রী প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করে আসছে।

তিনি অভিযোগ করেন যে, সংস্হার মাটির ঘরটি বৃষ্টিতে ভেঙে গেলে অর্থের অভাবে যথা সময়ে তা নির্মান করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ঘরটি পুনঃনির্মাণ করার পদক্ষেপ নিতে গেলে জমি দাতা জগন্নাথের ওয়ারিশ (নাতি) প্রসাদ সরকার, সুশীল সরকার, সুমিতা রানী ও সম্মতি রানী তাতে বাধা প্রদান করে।

সংস্হার সেক্রেটারী আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পাঁচবিবি থানায় করা এক অভিযোগে জানা যায়, গত ১৪/৪/২২ তারিখ রাতে তারা সংস্হার অফিস ঘরের তালা ভেঙে চেয়ার টেবিল নিয়ে যায়। এসব কারণে সংস্হার মানবিক কার্যক্রম স্হবির হয়ে পড়েছে। তিনি এর সুস্ঠু সমাধান চান।

অপর দিকে দাতা জগন্নাথের নাতি প্রসাদ সরকার (টপ্য) বলেন। স্হানটিতে আগে একটা ঘর থাকলেও এখন তার অস্তিত্ব নাই। সংস্হার কার্যক্রম এখন খাতা কলমে সীমাবদ্ধ। এছাড়া দলিলের শর্তানুসারে ঘর বিলীন হয়ে গেলে দাতার ওয়ারিশরা জমিটি নিজের অধিকারে নিবে উল্লেখ থাকায় সেই হিসাবে তারা জমিটি নিজের বলে দাবী করেন।

এ প্রসঙ্গে মশিউর বলেন, ঘর নয় সংস্হা বিলুপ্ত হওয়ার শর্ত আছে। ঘর ভেঙে যাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাময়িক ভাবে অন্য একট অস্হায়ী ঘরে সংস্হার সকল চলমান রয়েছে।