জলবায়ু সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল প্রণয়নে সহযোগিতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাসে কার্যকর জাতীয় কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে খুলনায় এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ্যাডামস ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে “মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আসিফুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমানের বাস্তবতা। এর প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং এর ফলে জনজীবনে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ্যাডামস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম আলী আসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ মুজিবুর রহমান এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আঞ্জুম তাসনুভা।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, উপপরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম, উপপরিচালক মিহির লাল সরদার এবং খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো: মেহেদী হাসান।
প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান। পুরো কর্মশালা পরিচালনা করেন এ্যাডামস ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ।
কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে এ্যাডামস ফাউন্ডেশন, জাতীয় পর্যায়ে আইক্যাড এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জার্মানওয়াচ বাস্তবায়ন করছে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলা বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক প্রভাব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা, ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সার্বিকভাবে, কর্মশালাটি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা ও সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।






























