১৪ বছর পর খুলনায় জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

দীর্ঘ ১৪ বছর পর বহুল আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় রায় দিয়েছেন আদালত। খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালত ৮ জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, সিদ্দিক, ওয়াসিম ওরফে দাদা ওয়াসিম এবং জব্বার। এদের মধ্যে কেবল ফারুক শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহিউদ্দিনের ছেলে মো. হায়দার ওরফে কানা হায়দার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি মাটিয়াপুল এলাকার বাসিন্দা ফারুকের মেয়ে মর্জিনা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস শুরু করেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দারের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা হায়দারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ সময় তার চিৎকার শুনে শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলার সময় হায়দারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিলে তাকেও আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হায়দার ও তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে নিহত হায়দারের ভাই তৈয়াব আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১০ সালের ১৩ আগস্ট মোট ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছর ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে অবশেষে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায় বিচারপ্রার্থীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ জোড়া হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো।






























