সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষপ্রেম গড়ে তুলতে সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাবেদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সবুজ কান্তি শর্মার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং দেশব্যাপী বর্ষাকালীন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝেও চারা বিতরণ করা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য নুরুল আমিন, অভিভাবক সদস্য জয়নাল আবেদীন ও মো. শফিক, তরুণ সমাজসেবক বেলাল উদ্দিন, এনজিও কর্মী নজরুল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাবেদুল আনোয়ার বলেন, “শিশুদের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া মানে একটি সবুজ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করা। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সবুজ, সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বিদ্যালয়ভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মসূচি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়িতে চারা রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং অন্তত একটি করে গাছ বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিরাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


























