ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিপাকে খুলনার নির্মাণ খাত

ইরান, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের নির্মাণ খাতের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের দাম হঠাৎ লাফিয়ে বেড়ে বহু ঠিকাদার ও নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাজ বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গত এক সপ্তাহে প্রতি টন রড ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা, সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ১২ থেকে ১৫ টাকা, বালু প্রতি ফুট ১০ থেকে ১২ টাকা এবং পাথরের দাম টনে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদার ও নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা। অনেকে কাজ বন্ধ রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) খুলনা বাজারে প্রতিটি নির্মাণ উপকরণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মাসে কোম্পানিভেদে প্রতি টন রড ৭৬–৮২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, এখন রডের দাম ৯৫ হাজার টাকার নিচে নেই। সিমেন্টের দামও বেড়ে ৪৭৫–৪৮০ টাকার স্থলে বর্তমানে ৪৯০–৪৯৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
৫/৮ ইঞ্চি আকারের পাথরের দাম ৪ হাজার ১০০ টাকার স্থলে ৪ হাজার ৯৫০–৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিলেটের বালু প্রতি বর্গফুটে ১০৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
খুলনা এলাকায় চলমান বড় সরকারি প্রকল্পগুলোও দাম বৃদ্ধির কারণে প্রভাবিত হয়েছে। ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের ম্যানহোল স্থাপন, সাবস্টেশন ও শোধনাগার নির্মাণে বড় অঙ্কের কংক্রিট ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া, খুলনা সিটি করপোরেশনের ৮৪৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণ ও বিভিন্ন রাস্তার কাজও চলছে।
স্থানীয় ঠিকাদার নাসিম কবির জানান, ২০২৬ সালে আমাদের ২০২২ সালের সরকারি দরে কাজ করতে হচ্ছে। গত চার বছরে সরকার নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায়নি, অথচ বাজারে রড, সিমেন্ট, পাথর ও বালুর দাম হঠাৎ লাফিয়ে বেড়েছে। এত দাম দিয়ে কাজ করা এখন প্রায় অসম্ভব।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আক্তার পিন্টু বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে প্রতিটি কেজি রডের স্থাপন, কাটা, বাঁধা ও শ্রম খরচসহ বিল পাই ১০৪ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ৯৫ টাকায় রড কিনলে সমস্ত খরচ যোগ করে ১২৫–১৩০ টাকা খরচ হয়। এত লোকসান নিয়ে কাজ চালানো সম্ভব নয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, বর্ষার আগে আমাদের কাজ শেষ করতে হয়। এ কারণে এখন বিরামহীন কাজ চলছে। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নির্মাণ উপকরণের অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ নির্মাণ খাতে প্রভাব ফেলছে। রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও প্রভাবিত করছে। নির্মাণ খাতের খরচ বৃদ্ধি প্রকল্পের সময়সূচি স্থগিত বা বিলম্বিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত নীতি গ্রহণ না করে, তবে নির্মাণ খাতে সংকট আরও বাড়বে। বিশেষ করে, সরকারি প্রকল্পের বাজেট নির্ধারণ ও ঠিকাদারদের জন্য নতুন দর নির্ধারণে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি।





























