আত্মশক্তির প্রতীক মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৬ মার্চ আসলেই প্রথমে চলে আসে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা আর মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। ১৯৭১ এর অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ এর রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান। ২৪ এর জুলাইয়ে ফ্যাসিস্টদের পতন হয়েছে। বিজয় হয়েছে ছাত্র-জনতার রক্ত¯œাত গণতন্ত্রের।
১৯৪৭ সালের পূর্বতন ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র অর্জিত হলেও অর্থনৈতিক মুক্তিসহ প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিমা শাসকগোষ্টির বৈষম্যমূলক নীতি ও আচরণের যাতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের মুক্তিকামী জনগণ তিলে তিলে জর্জরিত হয়।
১৯৪৭ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত ও সূচনা পর্ব, ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সফল বিস্ফোরণ পর্ব, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের চুড়ান্ত বিস্ফোরণ পর্ব, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
তাই বলা চলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মূলত: ভাষা আন্দোলন ও একুশের চেতনায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের স্বর্নফসল।
১৯৭১ সালের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা করেন। ২৪ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের যোগফল রুপান্তরিত হয় মুক্তিযুদ্ধরূপে। মহান মুক্তিযুদ্ধের যে গর্বিত ইতিহাস আমাদের রয়েছে সেটা বিশ্বের কম জাতিরই রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এই গর্বিত ইতিহাস জানাতে এবং সংরক্ষণ করতে হবে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ১৯৭১ সাল আমাদের জাতীয় জীবনে চিরস্মরণীয় বছর। স্বাধীনতা আর্জনের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। আকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একসাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীন। স্বাধীনতা আমাদের জন্য একটি স্বর্ণদুয়ার খুলে দিয়েছে, যে স্বর্ণদুয়ার দিয়ে প্রবেশকরে আমরা যুগসঞ্চিত জঞ্জাল দূর করার অঙ্গীকার ও প্রত্যয় ব্যক্ত করতে পারি।
আমাদের স্বাধীনতা আমাদের প্রেরণা। মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা শ্রেষ্ঠ সন্তান আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন।
ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আর তাই আমাদের পুরো মুক্তিযুদ্ধের ডিসকোর্সটা রাষ্টভাষা আন্দোলন থেকে উৎসারিত।
স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি বহু বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদি শক্তির বিরুদ্ধে যুগে যুগে এতদঞ্চলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সর্বস্তরের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে অধিকার, স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম করেছেন। ইতিহাসে ঈশা খাঁ থেকে ক্ষুদিরাম, বাঘা যতিন, মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
সময়ের ছকবদ্ধ গাঁথুনিতে সারিবদ্ধ হয় ইতিহাস। ইতিহাস মানব সভ্যতার অমূল্য দলিল। কোনো নির্দিষ্ট জাতি কিংবা গোষ্ঠী ইতিহাসের শিকড় ধরেই কেবল পৌঁছায় তার গৌরবময় অতীতের স্বপ্ন-ঐতিহ্য ভান্ডারের সুবর্ণ দুয়ারে, যা থেকে মন্থন করে নেয় সেই ভবিষ্যৎ চলার পাথেয়। ইতিহাস একমাত্র তখনই মূল্যবান, যখন তার ভেতর থেকে ভবিষ্যতের উন্নতির রসদ খুঁজে পাওয়া যায়। যিনি ইতিহাসের গতিধারা বদলে দেন তিনি নেতা। নেতা সৃষ্টি করে ইতিহাস। ইতিহাস সৃষ্টি করে মানুষ। আর এ জন্যই ইতিহাসের পাতায় সংযোজিত হয়ে থাকে একসাগর রক্তের কাহিনী।
মানবসভ্যতার অমূল্য দলিল হিসেবেই স্বাধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাই বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। স্বাধীনতা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনা।
মুক্তিযোদ্ধাদের মহিমাম্বিত ও দুঃসাহসিক বীরত্বের অমরগাঁথা কোটি কোটি বাঙালিহৃদয়ের মনিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে। বাঙালির যা কিছু বড় মাপের অর্জন, তা সম্ভব হয়েছে বাঙালির ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস স্মরণীয়, বরণীয়, চিরস্মরণীয়, অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২৬ মার্চকে তাই এ জাতি স্মরণ করে আত্মশক্তির প্রতীক হিসেবে।
স্মরণ করে আতœমর্যাদার দিগদর্শণরূপে। সশস্ত মুক্তিযুদ্ধের সূচনার মাস এই অগ্নিঝরা মার্চ। ২৬ মার্চে যার সূচনা, ১৬ ডিসেম্বরে তার পরিপূর্ণতা। ২৬ মার্চ যেহেতু এর সূচনা, তাই এই দিনটা আমাদের রক্তসিক্ত স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটা আমাদের অধীনতার শিকড় সমূলে ধ্বংস করার সূচনাকারী জাতীয় দিবস। অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ও স্বাধীনতা রক্ষার নিমিত্ত দিপ্ত শপথ ও অঙ্গিকার গ্রহণের দিন।






























