যশোরের রাজগঞ্জে প্রতারণার নতুন ফাঁদ নিয়ে উদ্বেগ, সচেতনতা ও কঠোর শাস্তির দাবি স্থানীয়দের

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনভিত্তিক এক নতুন প্রতারণার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অচেনা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে কল দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা ও ক্ষোভ। দুটিই বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেকেই +৩৭১, +৩৭৫, +৩৮১, +৫৬৩, +৩৭০ ও +২৫৫ দিয়ে শুরু হওয়া বিদেশি নম্বর থেকে কল পাচ্ছেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে কলটি একবার বেজে কেটে যায়। পরে কৌতূহলবশত কেউ কলব্যাক করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের ফোন পাই। এখন আবার নতুন করে এই বিদেশি নম্বরের বিষয়টি মানুষকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে।

সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।” একজন মোটরসাইকেল চালক আজিবর রহমান জানান, “আমার কাছেও কয়েকবার এমন কল এসেছে। প্রথমে গুরুত্ব দিইনি, পরে শুনছি এটা নাকি প্রতারণার ফাঁদ হতে পারে। তাই এখন আর অচেনা নম্বরে কল ব্যাক করি না।” এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে কলাররা ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন নম্বর চাপতে বলেন, যেমন ‘#৯০’ বা ‘#০৯’।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নির্দেশনা অনুসরণ করলে ব্যবহারকারীর সিম বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রবিউল ইসলাম বলেছেন, এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণাও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন শিক্ষক বলেন, “মানুষকে আগে সচেতন করতে হবে। অচেনা নম্বর থেকে আসা কল বা নির্দেশনা অন্ধভাবে অনুসরণ করা যাবে না। পাশাপাশি যারা এ ধরনের অপরাধ করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানান, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল তৈরি হচ্ছে। তাই সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সতর্কতা বার্তা: অচেনা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে আসা কল রিসিভ বা কলব্যাক না করা, ফোনে কোনো কোড (#৯০, #০৯ ইত্যাদি) চাপতে বলা হলে তা উপেক্ষা করা, ব্যক্তিগত বা ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য কাউকে না দেওয়া, স্থানীয়দের মতে, সম্মিলিত সচেতনতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ করতে।