লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পাষন্ড স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর দু’ পা ভেঙে গেছে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতী রাণী নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাষন্ড স্বামী দীপন দেব সিংহের বিরুদ্ধে। নির্যাতনে ওই গৃহবধূর দু’টি পা ভেঙে গেছে। যৌতুকের কারণে বার বার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ওই গৃহবধূ বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
ওই গৃহবধূ বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে ভাঙ্গা পা দু’টির অসহ্য যন্ত্রণায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। চলাফেরা করতে পারছেন না।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বেজগ্রাম, ৮ নং ওয়ার্ড নিবাসী মৃত তরণী কান্ত দেব সিংহের ছেলে দীপন দেব সিংহের সঙ্গে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার খালিশা মদাতীর ধরনী চন্দ্র বর্মনের মেয়ে ভারতী রাণীর সঙ্গে গত ০১/০৫/২০২৩-;খ্রিস্টাব্দে হিন্দু ধর্মের শাস্ত্র অনুযায়ী -ধরণী চন্দ্র বর্মনের কন্যা ভারতী রাণীর সঙ্গে বিয়ে হয়।
বিগত ১১/০৫/২৫ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু নিবন্ধকের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন করানো হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৮ লাখ টাকা, ডিসকভার ১২৫ সিসি একটি মোটরসাইকেল ও ৪ ভরি স্বর্ণ দেয়া হয়। যৌতুক লোভী দীপন চন্দ্র আরো ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন।
স্বামীর দাবীকৃত যৌতুক দিতে না পারায় বিয়ের পর থেকেই নানা সময়ে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। কিন্তু স্বামীর সংসার করার মানসিকতায় সব নির্যাতন মাথা পেতে সহ্য করেন ভারতী রাণী। তার সংসারে ১৮ মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে।
গৃহবধূ ভারতী রাণী মনে মনে ভাবতেন সন্তান জন্মের পর নির্যাতন কিছুটা কমবে। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী দীপন দেব সিংহের যৌতুক পাওয়ার আশায় গৃহবধূর উপর নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বেড়ে যায়।
মাঝে মাঝে বলতে থাকে তোকে মেরে ভারতে চলে যাবো, তোর পরিবারের করার কিছুই থাকবে না। কিন্তু ওই গৃহবধূ সংসার করার আশায় মুখ বুঝে সব সহ্য করলেও কাউকে জানাতেন না।এছাড়া দীপনের বাড়ী অন্যদের বাড়ী থেকে কিছুটা দূরবর্তী স্থানে থাকায় স্ত্রী নির্যাতন প্রতিবেশী অনেকেই জানতেন না। ফলে দীপন তার স্ত্রীকে ইচ্ছেমতো নির্যাতন করতো।
গৃহবধূ নির্যাতনের এ ঘটনাটি” ভারতের গৃহবধূ নির্যাতনের সিরিয়ালকে ও” হার মানাতো। যৌতুকলোভী স্বামী দীপন দেব সিংহ যৌতুকের কারণেই সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে তার গত ১০/০৪/২৬ ইং দুপুরে স্ত্রীকে বেদম মারপিট করে দু’ পা ভেঙে দেয়।আত্ন চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভারতী রাণীকে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করান।
ভর্তি রেজি: নং- ২৬৪৬, বিছানা নং- ম এক্স ৯ তার অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই গৃহবধূকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। গত ১১/০৪/২৬ খ্রিস্টাব্দে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করান। যার রেজি: নং- ২৮২৬, ওয়ার্ড নং-৩২।
সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা- নিরিক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন ওই গৃহবধূর দু’ পা ভেঙে গেছে। এরপর দু’ পায়ের হাড়ে স্টীলের প্লেট লাগিয়ে দু’ পা প্লাস্টার করিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তখন থেকে ওই গৃহবধূ বাবার বাড়িতে রয়েছেন এবং পা ভাঙ্গার অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিস মীমাংসা হয়েছে।
ওই গৃহবধূর মা বিন্দু রাণী বলেন, “জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের গায়ে একটা আছড়ও দেইনি। অথচ জামাই আজকে আমার এ মেয়েটিকে পিটিয়ে দু’টি পা ভেঙে দিয়েছে। ”
লালমনিরহাট জজকোর্টের আইনজীবী আব্দুর রশিদ প্রধান বলেন, এ ঘটনায় বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদাতল, লালমনিরহাটে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে যারা ধারা -২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন / ০৩/ এর ১১(খ) / এর/ ধারা। পিটিশন নারী ও শিশু -২২/ ২০২৬ । আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এর অগ্রগতি পাওয়া যাবে।






























