উপজেলা বাস্তবায়ন-সীমান্তসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ-হিমাগার স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন “বাঁকখালী উপজেলা” বা “পুর্বসীমান্ত উপজেলা” প্রতিষ্ঠা, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং গর্জনিয়া বাজারে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে “পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্ক”।
বুধবার (১০ জুন) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, রামু উপজেলার দুর্গম ও অবহেলিত গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ জনপদ প্রশাসনিক অবহেলা, যোগাযোগ সংকট এবং উন্নয়নবঞ্চনার শিকার হয়ে রয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে,প্রস্তাবিত উপজেলার নাম “বাঁকখালী উপজেলা” অথবা “পূর্বসীমান্ত উপজেলা” রাখা যেতে পারে। এতে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়ক দেশের পূর্ব সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধার্থে গর্জনিয়া বাজারে একটি আধুনিক মানের হিমাগার স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষিপণ্যের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান করার সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের সভাপতি মাঈনুদ্দীন খালেদ, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ইব্রাহিম খলিল মামুন ও নেজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এস. এম. হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আনোয়ার এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নুরুল হাকিম হিরো ও এস এম লুৎফুর কবির প্রমূখ।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এ জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, প্রশাসনিক সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
























