খুলনায় পুলিশ দম্পতি কারাগারে, গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালে দেশজুড়ে ক্ষোভ

খুলনায় গৃহপরিচারিকাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টায় সোনাডাঙ্গা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার এবং তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক ফারুক ইকবাল এ আদেশ দেন।
ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত গৃহকর্মী মিলন দাশের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলনের ওপর চড়াও হন পপি রানী সাহা। তিনি শুধু মারধরই করেননি, বরং গরম কড়াই দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেন।
এ সময় পাশে থাকা এএসআই সঞ্জয় কুমারও ঘটনাটি প্রতিরোধ না করে নীরব থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে প্রশাসনের। খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীকে হেফাজতে নেয়া হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মিলন দাশ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে। তিনি গত প্রায় ৫ বছর ধরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। ভিডিও দেখে মিলনের মা খুলনায় ছুটে আসেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দম্পতি গৃহকর্মীর বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। তবে ভিডিও প্রমাণ সামনে আসায় বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এ ধরনের নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং মানবিকতার চরম অবমাননা। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি এবং তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যাদের হাতে আইনের দায়িত্ব, তারাই যদি এমন বর্বরতায় জড়িত হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বিশেষ করে গৃহকর্মীদের মতো অসহায় শ্রেণির মানুষ কতটা সুরক্ষিত সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।






























