নেত্রকোনার মদনে ডাক্তারের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় দিলোয়ারা আক্তার (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক অনলাইন ফুটেজ ও সামাজিক যোগ যোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়।

জানা যায়, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাছুম আলীর স্ত্রী দিলোয়ারা আক্তার গত শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে পেটে ব্যথা নিয়ে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে বিকেল ২টার দিকে তিনি মারা যান। তার স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় দিলোয়ারার ভাসুরের ছেলে মিষ্টার মিয়া একই দিন রাতে নেত্রকোনা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরদিন বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক জাতীয় সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলার নির্দেশে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা খান সোমবার (৮ জুন) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডা. মো. আশিক ইকবালকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডা. নয়ন চন্দ্র ঘোষকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ডা. মো. ইহসানুল করিম তানজিম, ডা. দিলশাদ নাসিম এবং নার্সিং সুপারভাইজার অসীমা রায়।

গঠিত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রবিবার (৭ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, রোগীর স্বজন ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা খান বলেন, “সিভিল সার্জনের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।”

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, “চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”