চটকদার ইন্টারনেট অফারের ফাঁদে গ্রাহকরা

ফেসবুকে ভুয়া টেলিকম পেজের প্রতারণা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কম টাকায় বেশি ইন্টারনেট ও মিনিট দেওয়ার লোভনীয় অফার দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক অনলাইনভিত্তিক টেলিকম সেন্টারের বিরুদ্ধে।

“৩০ দিনের মেয়াদি ইন্টারনেট”, “সীমিত সময়ের মেগা অফার”, “কম দামে বেশি ডাটা ও মিনিট” কিংবা “সুপার সেভিংস প্যাকেজ” নামে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব প্রতারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে খোলা পেজ থেকে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল সিমে বিশেষ ছাড়ে ইন্টারনেট ও মিনিট প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়, যা দেখে সহজেই গ্রাহকরা আকৃষ্ট হন। সেখানে বলা হয়, “যারা বেশি কথা বলেন বা সারাদিন অনলাইনে থাকেন তাদের জন্য পারফেক্ট প্যাকেজ”, “আজ মিস করলে কাল আর নাও পেতে পারেন”, “স্মার্ট কাস্টমাররা দেরি করেন না” ইত্যাদি।

অভিযোগ রয়েছে, অফার পছন্দ করে যোগাযোগ করলে অপরপ্রান্ত থেকে প্রথমেই বিকাশ বা নগদ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়। গ্রাহকদের আশ্বস্ত করা হয় যে টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের পছন্দের প্যাকেজ অ্যাকটিভ করে দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেজ তো দেওয়া হয়ই না, বরং যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি “ফারহাদ টেলিকম”, “হাজী ওবায়দুল্লাহ টেলিকম”সহ বিভিন্ন নামে পরিচালিত কয়েকটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতারিত হলেও ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।

রাজগঞ্জের স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, ফেসবুকে আকর্ষণীয় একটি ইন্টারনেট অফার দেখে তিনি যোগাযোগ করেন। পরে বিকাশে টাকা পাঠানোর পর আর কোনো সাড়া পাননি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো উত্তর মেলেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি অনুমোদনহীন বা অজানা উৎস থেকে ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। মোবাইল অপারেটরগুলোর নিজস্ব অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও অগ্রিম অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

রাজগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। তাই সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং মোবাইল অপারেটর কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রতারকদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “অস্বাভাবিক কম দামে বড় সুবিধার প্রতিশ্রুতি” প্রায়শই প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ। তাই কোনো অফারে আগ্রহী হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়, ঠিকানা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি অগ্রিম অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনলাইনে পরিচালিত ভুয়া টেলিকম পেজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হোক।