স্বাধীনতার পরও পূরণ হয়নি রাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি-‘পূর্ণাঙ্গ থানা চাই’

দেশে নতুন করে আরও ৩টি উপজেলা ও ১টি থানা ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তে যখন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তখন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের দাবি জানিয়ে এলেও আজও সেই দাবি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্ব-সব দিক থেকেই রাজগঞ্জ একটি পূর্ণাঙ্গ থানা, এমনকি ভবিষ্যতে উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু বছরের পর বছর দাবি জানানো হলেও বিষয়টি কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, মশ্বিমনগর, হরিহরনগর, খেদাপাড়া ও রোহিতা-এই ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে রাজগঞ্জ থানা গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। এসব ইউনিয়নের মানুষকে প্রশাসনিক কাজ, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রয়োজন কিংবা জরুরি সেবা নিতে এখনও মনিরামপুর উপজেলা সদরেই যেতে হয়।

অনেক এলাকার মানুষের ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়, ফলে জরুরি মুহূর্তে চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ।

রাজগঞ্জে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এছাড়া একাধিক কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে।

এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপা বাওড়ের ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ভাসমান সেতু, যা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে রাজগঞ্জের অবস্থান ঝিকরগাছা ও কেশবপুর উপজেলার সংযোগস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রশাসনিক গুরুত্বও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের বসবাস হলেও এখানে রয়েছে মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং একটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে রাজগঞ্জ অঞ্চলের দূরবর্তী ইউনিয়নগুলো থেকে রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়রা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক তাঁর প্রথম দিনের বক্তব্যে রাজগঞ্জকে থানায় উন্নীত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে রাজগঞ্জবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে আজও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রাজগঞ্জবাসীর মতে, নতুন নতুন উপজেলা ও থানা ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এবার তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা সেবা, অগ্নিনির্বাপণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে রাজগঞ্জকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে লালিত এই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে-এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।