“৫ আগস্টের সেই রাত আজও ভুলতে পারি না”: জেলজীবনের শেষ প্রহরের স্মৃতিচারণে সুমন সরদার

ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাবহুল দিন এবং কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটানো শেষ রাতের স্মৃতিচারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ লেখায় তিনি দাবি করেন, ভোররাত থেকেই কারাগারের ভেতরে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার সাক্ষী হন তিনি।

পরে দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো কারাগারে আনন্দ-উল্লাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সুমন সরদারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বনফুল ভবনের ১০৭ নম্বর কক্ষে থাকা অবস্থায় এক কারারক্ষী তাকে ডেকে গরম খিচুড়ি দেন। বিষয়টি তাকে বিস্মিত করে এবং তিনি ঘটনার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নে পড়ে যান।

পরদিন সকালেও অস্বাভাবিকভাবে কয়েক মিনিটের জন্য বন্দিদের ভবনের ভেতরে হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়, যা আগে কখনো ঘটেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই কারাগারের বিভিন্ন ভবন থেকে স্লোগানের শব্দ ভেসে আসে। কিছুক্ষণ পর খবর ছড়িয়ে পড়ে যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই বন্দিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সবাই শুকরানা নামাজ আদায় করেন।

সুমন সরদার আরও দাবি করেন, ওই সময় কারারক্ষীরা তাকে ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত হতে বলেন। পরে তাকে অন্য একটি ভবনে নেওয়া হয়, যেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অবস্থান করছিলেন। সেখানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার দেখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন ভবন থেকে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ভোরে কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন ভবনে গিয়ে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এরপর কারাগারের ভেতরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সুমন সরদার আরও বলেন, এ সময় কিছু দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি কারাগার ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সবশেষে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে রুহুল কবির রিজভী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলো সুমন সরদারের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।