কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু প্রথম দিনেই রেকর্ড ১৯৩ টন মাছ আহরণ, বিপুল রাজস্ব আয়

দীর্ঘ ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ ধরা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ মাছ ধরা পড়েছে এবং অর্জিত হয়েছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

১০ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে হ্রদে পুনরায় জাল ফেলেছেন জেলেরা। ভোর হতেই মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার হ্রদে প্রচুর কাচকি, চাপিলাসহ বিভিন্ন দেশি ছোট মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ছে বড় আকারের কাতলা, কালবাউশ ও আইড়।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিনেই রাঙামাটির চারটি ঘাটে মোট ১৯৩ মেট্রিক টন মাছ অহরণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। রেকর্ড পরিমাণ এই মাছ থেকে একদিনেই সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি রাজস্ব।

কাপ্তাই লেকের বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি, মাইনি, শুভলং, গাছকাটা ছড়া ও রাইংখং খালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ এসেছে। ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধের পর বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি বেলাল হোসেন জানান, দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গামাটি বিএফডিসি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধের পর মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় রাঙ্গামাটির বিএফডিসির ল্যান্ডিং ঘাটে প্রথম দিনে প্রচুর পরিমাণ মাছ এসেছে এবং এবার সাইজ একটু ছোট হলেও আগামী কিছু দিনের মধ্যে মাছের আকার বড় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই লেকে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পরে লেকের পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে লেকে পুনরায় মাছ ধরা শুরু হয়।