খাগড়াছড়িতে অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ চার ইউপিডিএফ আটক, মামলা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় দীঘিনালা উপজেলার অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ ৪ ইউপিডিএফ(প্রসিত) কর্মী আটকের ঘটনায় সেনাবাহিনী কর্তৃক হস্তান্তরের পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে দীঘিনালা থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজি আইনে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নের বানছড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পরাজয় চাকমার সেগুন বাগানে অভিযান পরিচালনা করে, কবাখালী ইউনিয়নের কৃপাপুর গ্রামের মৃত আরনন্দ চাকমা ছেলে প্রত্যয় চাকমা ওরফে প্রীতি(৪২), দীঘিনালা ইউনিয়নের মধ্য বানছড়া গ্রামের চন্দ্র দেব চাকমার ছেলে সমর বিজয় চাকমা ওরফে নিবেদন চাকমা(৩৬), ভিতর বানছড়া গ্রামের মৃত জীতেন্দ্র লাল চাকমার ছেলে পূর্ণ জীবন চাকমা ওরফে দিগন্ত চাকমা(৪২) এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বংগলতলী ইউনিয়নের হাগলাছড়া গ্রামের প্রিয় রঞ্জন চাকমার ছেলে বিধু ভূষণ চাকমা অনিক(৫২)কে আটক করা হয়।

এসময় তাদের সাথে থাকা ১টি চইজঊঞঞঅ পিস্তল (টঝঅ), ১টি কাঠের বাট সংযুক্ত পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন এবং ৪০রাউন্ড গুলি, নগদ ৫লক্ষ ৭৪হাজার ৫শত ২১টাকা, ৭টি বাটন ফোন, ১টি এন্ডোয়েট ফোন এবং ১০টি সিম, ছোট বড় ৪টি ব্যাগ। এছাড়া ৭টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই উদ্ধার করা হয়।

এদিকে আটককৃতদের নিজেদের কর্মী বলে স্বীকার করে গণমাধ্যমের কাছে প্রতিবাদ লিপি দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা মঙ্গলবার(২রা মার্চ ২০২১) এক বিবৃতিতে দীঘিনালায় সেনাবাহিনী কর্তৃক ইউপিডএফের চার সদস্যকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার সময় দীঘিনালা সেনা জোন থেকে একদল সদস্য বানছড়া এলাকা থেকে ইউপিডিএফ’র চার সদস্যকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পুর্ণ জীবন চাকমা(৫০), পিতা-জীতেন্দ্র চাকমা, সমর বিকাশ চাকমা(ভালা) বয়স: ৪২, পিতা-চন্দ্রদেব চাকমা, প্রত্যয় চাকমা(প্রীতি), বয়স: ৪৫, পিতা- অরনন্দ চাকমা ও বিধু ভূষণ চাকমা(৪৮), পিতা-প্রিয় রঞ্জন চাকমা।
বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দমনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ইউপিডিএফ’র ওপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারান্তরীণ রাখা হচ্ছে। এমনকি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পর্যন্ত পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি গ্রেফতারকৃতদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে তাদের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় ধরপাকড় বন্ধসহ সকল ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের জোর দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান দায়িত্ব প্রাপ্ত নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) উত্তম চন্দ্র দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য মঙ্গলবার(২ মার্চ) ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উপজেলার ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নের বানছড়া এলাকার পরাজয় চাকমার সেগুন বাগান তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীঘিনালা থেকে ৪জন ইউপিডিএফ কমর্ীকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বানছড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।