খাগড়াছড়ির রামগড়ে প্রশাসনের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, ওসি, ইউএনওসহ আহত-১৫

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা রামগড় উপজেলার পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় প্রশাসনের অভিযানকালে স্থানীয়দের সাথে প্রশাসনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউএনও, ওসিসহ উভয়পক্ষের ১৫জন আহত হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এ হামলার ঘটনায় ১০রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ। মঙ্গলবার(১২ই মে) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর গ্রাামবাসির হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা ১০রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম ও থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ নাজির আলমসহ কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছেন। ১২ই মে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, রামগড় উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও অফিসের স্টাফ সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব জুয়েল(৩০), এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন(৩৮), ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য হচ্ছেন নুর মোহাম্মদ-১(২৫) নুর মোহাম্মদ-২(৩৩) ও খোরশেদ আলম(৩৭)।
আহতদের মধ্যে এছাড়া ইউএনও’র ড্রাইভার কামাল উদ্দিন(৪০)।
হামলায় অপর আহতরা উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন(৪৫) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস স্টাফ জয়নাল আবেদীন(৪২), পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন(২৬)।
গ্রামবাসি স্থানীয় যুবক নুর হোসেন(১৯), সুমন ত্রিপুরা(২২), আজাদ(২৫) ও আবুল হোসেন(৩০)। আহত চার গ্রামবাসি রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানান। আহতরা সকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়ির সামনের গøাস ভাংচুর করা হয়।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষন ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসন একটি বালু মহলে অভিযান পরিচালনা করে ৫থেকে ৬টি বালু তোলার মেশিন ধংস করে। ফেরার পথে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়। পরে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
রামগড় উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা কাজী শামিম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ চালাচ্ছিলেন। এমন তথে্যর ভিত্তিতে পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় অভিযানে গেলে দেখতে পান দুই কিলোমিটারের এলাকা জুড়ে একাধিক স্থানে ৩০-৪০ফুট গর্ত করে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলেছে একটি চক্র।
ঘটনাস্থল থেকে বালু তোলার পাইপ জব্দ করা হয়। পরে ফেরার পথে তাদের উপর হামলা করা হয়। অবৈধভাবে বালু তোলার সাথে জড়িতরা এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম এ প্রতিনিধিকে আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় কতিপয় লোক অভিযান পারিচালনায় অংশগহণকারীদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা এক-দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১৫জন আহত হন। ইউএনও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়।
রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন জানান, বালু মহলে অভিযানে গিয়ে রামগড় থানার ওসিসহ হামলার শিকার হয়েছে। এ-সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ও আনসার সদস্য ১০রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত টেলিফোনে জানান, রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ওসি, ইউএনও আক্রান্ত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসন পুরো ব্যাপারটি দেখছে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে স্থানীয় এবং প্রশাসনের একাধিক সুত্রে জানা যায়, রামগড় উপজেলায় লামকু পাড়া, থানা চন্দ্রপাড়া, খাগড়াবিল এলাকা, ওয়াফই পাড়া এসব জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হতো।
প্রশাসনের অভিযানের পর বন্ধ থাকলেও মাস দেড়েক ধরে নতুন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। তারমধে্য পূর্ব বলিপাড়া এলাকাটি অবৈধ বালু উত্তোলনের সবচেয়ে বড় জায়গা। এরসাথে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আহত গ্রামবাসি দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচে কাজের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভেঙ্গে ফেলে। এতে গ্রামবাসিরা বাধা দিলে তারা গ্রামবাসির ওপর গুলি বর্ষণ করে।
কৃষক ফারুক অভিযোগ করে বলেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প মেশিন ভেঙ্গে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে তিন কৃষকের সেচ পাম্প মেশিনও ভাঙ্গা হয় বলে জানান। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প মেশিন ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।






























