জনতার প্রশ্নের মুখে হেলাল

সেতু, কৃষি, কর্মসংস্থান ও নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার খুলনা-৪ এ

নির্বাচনী প্রচারণার প্রচলিত সভা–সমাবেশের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি জনতার মুখোমুখি হয়েছেন খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।

নদীবেষ্টিত এই জনপদের দীর্ঘদিনের সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে খোলামেলা প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরেন নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে রূপসা উপজেলার পালেরহাট বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় টকশো উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রার্থীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন করেন। বেকারত্ব, মাদক, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য, যোগাযোগ সংকট, শিক্ষা–স্বাস্থ্য ও নদীপাড়ের শিল্পায়ন—সব বিষয়ই উঠে আসে আলোচনায়।

খুলনা-৪ আসনের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা নদী এই জনপদের প্রাণ হলেও পরিকল্পনার অভাবে সেটিই আজ বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। নদীকে বাধা নয়, শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন ছাড়া খুলনা-৪ এর টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়।

তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় যুব সমাজ আজ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষি, মৎস্য, নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পকে ভিত্তি করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রম বাড়িয়ে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

রূপসা অঞ্চলের সবজি ও কৃষিপণ্যের প্রসঙ্গে হেলাল বলেন, উৎপাদনে সাফল্য থাকলেও দুর্বল যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক বাজার কাঠামো গড়ে তুলে কৃষকের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধানে রূপসা নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আজিজুল বারী হেলাল।

তিনি বলেন, একটি সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। এই দুটি সেতু খুলনা-৪ আসনের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে।

রূপসা নদীর তীরে গড়ে ওঠা মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় এখানে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।

এ ছাড়া এলাকায় একটি হটলাইন নম্বর চালুর কথা জানিয়ে হেলাল বলেন, তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন। নির্বাচনের পরও এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রূপসা জেলখানা ঘাট এলাকার মানুষের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি আধুনিক ও নিরাপদ ফেরি পারাপার ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।

নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে এই সরাসরি প্রশ্নোত্তরের আয়োজন খুলনা-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

জনতার প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোই এখন ভোটের মাঠে আজিজুল বারী হেলালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা।