যশোরের রাজগঞ্জে বেকারত্বের দগদগে বাস্তবতা: দিশেহারা শিক্ষিত যুবসমাজ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে বেকারত্ব পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে শিক্ষাজীবন শেষ করেও তারা দীর্ঘ সময় বেকার থেকে দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশিরভাগ যুবক-যুবতী উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও উপযুক্ত চাকরির সুযোগ না থাকায় হতাশায় ভুগছেন।
অনেকেই মাঠে শ্রম দিতে পারছেন না, আবার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে ভ্যান বা অটোরিকশা চালিয়েও আয় করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে তারা পরিবারে আর্থিক অবদান রাখতে না পেরে উল্টো বাবা-মায়ের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে থাকছেন।
রাজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন পরিবার জানায়, বেকার সন্তানের সংসার খরচ, শিক্ষার ঋণ এবং দৈনন্দিন ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। এদিকে, এলাকায় নতুন শিল্প, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প না থাকায় বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, রাজগঞ্জে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, নতুন শিল্প স্থাপন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
একইসঙ্গে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং যুবসমাজকে স্বনির্ভর করতে নানা সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
রাজগঞ্জ অঞ্চলের অনেক যুবসমাজের ভাষ্য মতে— “শিক্ষা অর্জন করেও বসে থাকা আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর ব্যাপার, পরিবার থেকে চাপও থাকে। এখন প্রয়োজন কর্মসংস্থানের। কর্মসংস্থানের সুযোগ হলেই আমাদের কষ্ট দুর হবে।”
অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রাজগঞ্জ অঞ্চলে বেকারত্ব সমস্যাটি ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বড় সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।






























