কুয়াকাটায় বনরক্ষীদের মারধর করে মোবাইল ও টাকা লুট করলো বনদস্যুরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ম্যানগ্রোভ বনায়ন থেকে গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য স্মার্টফোনে ধারণ করায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার মহিপুর থানার ধূলাসার ইউপির গঙ্গমতি তেত্রিশকানী পয়েন্টে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বনদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত এক বনকর্মী প্রায় চার ঘন্টা নিখোজঁ ছিলেন বলেও দাবি বন রক্ষাকারীদের। হামলায় গুরতর আহত বাগান মালি রাসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো পাঁচজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুবেল মিয়া জানান, গোপন সংবাদ পাই যে তেত্রিশকানী পয়েন্টের কেওড়া বাগান থেকে কিছু ব্যক্তি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনিসহ বনকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ৩ থেকে ৪ ফুট সাইজের ১০/১২টি কেওড়া গাছ (গুড়ি) এবং কেটে নেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান পান।

এ সময় তিনি তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন দিয়ে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তরা এসে তাদের ঘিরে ধরেন। তার অভিযোগ, কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় খালেক ফকির,আল-আমিন ফকির,আবু সালে ও কাওসার সহ ৯/১০ জনের একটি দল তাদের এলো পাথারী পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে বাগান মালি রিয়াজ নিখোঁজ হয়ে যান। কিন্তু ৫ ঘন্টা পরে তিনি আহতাবস্থায় ক্যাম্পে ফিরে আসেন। এছাড়াও সবাইকে পিটিয়ে আহত করে।

এই বন কর্মকর্তা আরো জানান, হামলাকারী বনদস্যুরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে গাছ কাটার সকল দৃশ্য মুছে ফেলে। এবং মানিব্যাগ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সোলেমান বিশ্বাস বলেন, আমরাকয়েকজন চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি বন কর্মকর্তাদের মাটিতে ফেলে পিটাচ্ছে।
বিষেশ করে খালক ফকির ও আল-আমীনকে থামানো যাচ্ছিল না। আমার সামনেই বিট কর্মকর্তাকে পিটিয়ে প্রায় অচেতন করে ফেলেছিল। এসময় মার ঠেকানোর চেষ্টাকালে বনকর্মীদের পিটিয়ে মেরে ফেলার কথা বলছিল হামলাকারীরা জানান এই প্রত্যক্ষদর্শী।

তিনি আরো জানান এই খালেক ফকির এর আগেও এক বন কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। যে ঘটনার মামলা আজও চলমন রয়েছে। এছাড়াও আরও এক বন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, আলামিন, সোলেমানসহ কয়েকজন বনের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সংবাদে ফরেস্ট সদস্যরা সেখানে গেলে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়। কোনমতে তারা প্রাণ রক্ষা করে ফিরেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিন ফকিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে অপর প্রান্ত থেকে তার ছেলে নেছার ফোন রিসিভ করে জানান, তার বাবা বাড়িতে নেই। আর ফরেষ্টারদের সঙ্গে ঝামেলা হইছে আমি তখন স্কুলে ছিলাম।

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, বন কর্মী ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বনরক্ষী