কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট, ব্যাহত বিদ্যুৎ উৎপাদন

কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে আবারও কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটই বন্ধ রয়েছে। মাত্র ২ ইউনিট চালু আছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

জানা যায়, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে চালু থাকা ২টি ইউনিট দিয়ে মাত্র ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। রুলকার্ড অনুযায়ী বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৮৫ দশমিক ৮০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে মাত্র ৭৫ দশমিক ৫ এমএসএল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদে পানি সংকটের কারণে বর্তমানে শুধু দুইটি ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে। দুটি ইউনিটে মোট ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর ৭৫ দশমিক ৫ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। ফলে পানি স্বল্পতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে হ্রদের পানি বাড়বে এবং একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।

মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট তীব্র হয়েছে। পানি স্বল্পতায় এরই মধ্যে জেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত ৫টি উপজেলা- লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যাতায়াতে সময় ও খরচ দুই-ই বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব উপজেলার বসবাসরত জনগণ। পণ্য পরিবহনেও বেড়েছে কয়েক গুণ খরচ আর দুর্ভোগ। এর প্রভাবে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।হ্রদটি দ্রুত খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নৌযান শ্রমিকদের দাবি, নাব্যতা সংকটে হ্রদে ৪২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ৩০০টি ছোট বড় ইঞ্জিনবোটের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নৌযান মালিকদের দৈনিক ১৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

বিলাইছড়ির উপজেলার ব্যবসায়ী সাইমন বলেন, লেকে পানি কম। আগের মতো লঞ্চ চলাচল করে না। হ্রদে কমে গেছে লঞ্চের সংখ্যা। যেসব বোট চলে সেগুলোতে যাতায়াত করতে কষ্ট হয়। ঘাটে আসতে অনেক দূর পায়ে হাঁটা লাগে। আবার ভাড়াও বেড়েছে। আগে যে ভাড়া ছিল ২০০ টাকা, তা এখন ২৮০ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৬০ সালে দেশের একমাত্র কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের হাত ধরে তৈরি হয় বহুমুখী কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে হ্রদটির একবারও খনন কিংবা সংস্কার করা হয়নি। ফলে দখল, দূষণ আর মানবসৃষ্ট বর্জ্যের সঙ্গে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্রদে লঞ্চ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিকল্প উপায়ে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে যাত্রীদের কয়েক গুণ অর্থ ও সময় যাচ্ছে। এর প্রভাবে আয় কমে গেছে। পাঁচ হাজার নৌযান শ্রমিকও বিপাকে পড়েছেন। কাপ্তাই হ্রদ রক্ষা ও নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত হ্রদ খননের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটিবাসী

রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দীন সেলিম বলেন, প্রায় তিন দিন ধরে আমাদের বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোন রকম অর্ধেক পর্যন্ত যেতে পারে।

বৃষ্টিপাত না হলে, লেকের পানি না বাড়লে লঞ্চগুলো চলাচল করতে পারে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে যাতায়াতে পাঁচ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত কাপ্তাই লেকটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’