কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জাল স্বাক্ষরে ভুয়া জবানবন্দীর নথিপত্রে পুলিশ সুপারের তদন্তের নির্দেশ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানা পুলিশের এস আই আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জসীট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। বৃহস্পতিবার বিকেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি মুঠো ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কুড়িগ্রামের এএসপি সার্কেলকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক-এর উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম। এঘটনায় উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এহামলা চালায় বলে ওই দিনই রাজারহাট থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৭) দায়ের করা হয়।

তবে মামলা দায়েরের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বাদী কিংবা এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তাড়াহুড়ো করে গোপনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলাম। মামলায় এজহার নামীয় চারজন সাক্ষী থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁদের একজনেরও জবানবন্দি নেননি বলে অভিযোগ উঠে।

এছাড়া গত প্রায় তিন মাস পূর্বে গোপনে চার্জশিট দাখিল করা হলেও দু’দিন পূর্বে বাদী বিষয়টি জানতে পারেন। এঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে (২৩ জুলাই) ভূক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের নিকট সরাসরি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বাদী ও স্বাক্ষীর জাল স্বাক্ষরে ১৬১ধারার ভূয়া জবানবন্দীর নথিপত্র তৈরি করে আদালতে আসামী পক্ষে মনগড়া চার্জশিট দাখিলের সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।

এবিষয়ে মামলার ১নম্বর সাক্ষী গোলাম রব্বানী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনো দিন কথা বলেননি, অথচ কাগজে-কলমে আমার নামে জ্বাল স্বাক্ষরে জবানবন্দি বানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অপর সাক্ষী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “২৯ মার্চের ১৭ নম্বর মামলার অন্যতম সাক্ষী আমি। কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই আমার ভুয়া জবানবন্দি দিয়ে চার্জশিট প্রেরণ করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ অপর স্বাক্ষীদের।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, “রাজারহাট থানায় দীর্ঘদিন ধরে চার্জশিট বাণিজ্যের যে গুঞ্জন ছিল, এবার নিজেই তার ভুক্তভোগী হয়ে গেলাম। একজন পেশাদার সাংবাদিকের মামলায় যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষ এখানে কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে? একারণে বাদী ও স্বাক্ষীর জাল স্বাক্ষরে চার্জশিট দাখিলের সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।

এরআগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সাক্ষাতে বক্তব্য দেয়ার কথা জানান। অথচ থানায় যাওয়ার পর তিনি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে বলে এবিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদের কাছে জালিয়াতি ও চার্জশিট বাণিজ্যের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধ থাকার অজুহাতে এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠো ফোনে কথা হলে, অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, অভিযোগ প্রাপ্তির পরই এএসপি সার্কেলকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণ হলে বিধি অনুযায়ী অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।