মরার পরে খাড়ার ঘা

সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেই হতদরিদ্র বাবার একমাত্র সম্বল ভ্যান চুরি

সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নেমে এসেছে আরেক দুঃসহ আঘাত। একদিকে বুকের ধন ১০ বছরের ছেলে জিসানকে হারানোর অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম মোটরভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক মফিজুর রহমান।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামের বাসিন্দা মফিজুর রহমানের ছেলে জিসান গত শনিবার পারখাজুরা বাওড়ের আগাড়ে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। একই ঘটনায় আরও এক শিশু ইয়াসমিনেরও মৃত্যু হয়। দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাওয়ার আগেই শনিবার দিবাগত রাতে মফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম মোটরভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। ভ্যানটি চালিয়েই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতেন তিনি। এখন সন্তান হারানোর পাশাপাশি জীবিকার শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মফিজুর রহমান বলেন- ছেলেটারে হারাইছি, বুকটা খালি হয়ে গেছে। এখন আবার আমার ভ্যানটাও চুরি হয়ে গেল। এই ভ্যান চালিয়েই সংসার চলত। আমি গরিব মানুষ, আর কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। আল্লাহ আমারে কোন পরীক্ষায় ফেলছে জানি না।
তিনি আরও বলেন- একদিকে ছেলের লাশের কষ্ট, অন্যদিকে ঘরে বসে থাকলে খাবার জুটবে না। ভ্যানটা যদি ফিরে না পাই, তাহলে আমার পরিবার কীভাবে চলবে-আমি জানি না। আমি আর পারতেছি না।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- মফিজুর রহমান অত্যন্ত দরিদ্র একজন ভ্যানচালক। ছেলেকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই তার একমাত্র আয়ের মাধ্যম ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখে ভ্যানটি উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি- সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে এমন অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ দ্রুত ভ্যানটি উদ্ধারের উদ্যোগ নিলে পরিবারটি অন্তত জীবিকা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে।
মরার পরে খাড়ার ঘা-একদিকে সন্তানের শোক, অন্যদিকে জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা মফিজুর রহমানের পরিবার।