শেষ কর্মদিবসে চাকরি থেকে নয়, জীবন থেকেই বিদায় নিলেন শিক্ষক তপন সাহা

সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহার ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী শেষ কর্মদিবস, বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে হওয়ার কথা ছিল সেই আয়োজন। তিনিও অবসরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু চাকরি থেকে নয়, জীবন থেকেই বিদায় নিলেন, তপন কুমার সাহা।
অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলো প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহার মরদেহ। যে বিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই শেষ বিদায় নিতে হলো তাকে। সোমবার রাত তিনটার দিকে (রোববার দিবাগত রাত) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর শহরে তাঁর নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের সহকর্মী শিক্ষিকা তানজিলা আক্তার জানান, সোমবার দুপুরে তপন কুমার সাহাকে বিদ্যালয় থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি ক্রেস্ট দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই ভোররাতে ফোনে খবর আসে, রাতে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মা-রা গেছেন।
আরেক সহকর্মী শিক্ষিকা লিমা আক্তার জানান, রাত তিনটার দিকে চাঁদপুর শহরের নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তপন কুমার সাহা। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আগেই তিনি মৃ-ত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শিক্ষার্থী রেখে গেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল আলম অরুন বলেন, ‘আজ (সোমবার) স্যারকে বিদ্যালয় থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আমিও সেখানে অতিথি ছিলাম। কিন্তু স্যারকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় না দিয়ে আজ চিরবিদায় দিতে হলো। তাঁর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ-ত্যুতে আমরা ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত।’
তপন কুমার সাহার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল তার কর্মজীবনের শেষ দিনের আনন্দঘন বিদায়, সেই দিনটিই পরিণত হলো সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনার চিরস্মরণীয় দিনে।






























