মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রবাসীর ঘর নির্মাণে অনিয়ম, জাল চুক্তিপত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি

সাতক্ষীরার কলারোয়া প্রবাসীর আরসিসি ঘর নির্মাণের জাল চুক্তিপত্র তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা দাবি, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও হেডমিস্ত্রি মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাটি উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের মৃত মফিজউদ্দীনের ছেলে প্রবাসী তরিকুল ইসলাম তোতার পরিবারের সাথে ঘটেছে।
এ ঘটনায় প্রবাসীর পরিবার চরম হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে ,প্রবাসী তরিকুল ইসলাম তোতার পক্ষে তার ভাইপো আজমির হোসেন বাড়ি নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সেই মর্মে গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একই গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে ২ কক্ষবিশিষ্ট ৯ কলামের একটি আরসিসি ঘর নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।চুক্তি অনুযায়ী ঘরের বেজের মাটি কাটা, বালি ফেলা, পোতা ও প্লাস্টারের কাজ, সিঁড়ি ঘরের গাঁথুনি, ছাদের পেটেল স্ট্যান্ড, গ্রেড বিম, লিন্টন, ফলস সিলিং, বারান্দায় সানশেড, একটি কমট বাথরুমসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ শুরুর পর মিস্ত্রিদের মজুরি, কাঠ ক্রয় ও ভাইব্রেশন মেশিন কেনাসহ বিভিন্ন খাতে ধাপে ধাপে মোখলেছুর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গত ১৭ মার্চ ছাদ ঢালাইয়ের মিস্ত্রিদের মজুরি বাবদ আরো ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে তিনি মোট ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু হেডমিস্ত্রি মোখলেছুর প্রবাসী পরিবার থেকে এত টাকা গ্রহণ করলেও নির্মাণকাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করেনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ছাদ ঢালাইয়ে ব্যাপক ত্রুটি রয়েছে। ছাদের কোনো অংশ প্রায় ৫ ইঞ্চি উঁচু আবার কোনো অংশ প্রায় ৫ ইঞ্চি নিচু হয়ে গেছে। ফলে ঘরটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।আরো অভিযোগ করেন চুক্তি অনুযায়ী মোখলেছুর রহমানকে সিঁড়ি ঘরের গাঁথুনি, পোতা ও প্লাস্টারের বাকি কাজ শেষ করার পাশাপাশি ছাদে সৃষ্ট ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে বলা হয়। কিন্তু‘ তিনি ওই কাজগুলো সম্পন্ন না করেই নির্মাণকাজের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চলে যান।
নির্মাণকাজে ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর মোখলেছুর রহমান উল্টো চুক্তিপত্র জাল করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ভুক্তভোগীদের চাপে রাখতে ভাই -ভাতিজাসহ পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলার তদন্তে চলতি বছরের ১৪ জুলাই সরজমিনে যায় সাতক্ষীরা ডিবি অফিসের একজন কর্মকর্তা। তিনি মামলার বিষয় যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডিবি কর্মকর্তার তদন্তের এক সপ্তাহ পর বাদীপক্ষ চক্রান্ত করে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। সেই অনুযায়ী, গ্রামের একটি পরিত্যক্ত খানায় স্যানিটারি সামগ্রীর কয়েকটি টিনের শিট ফেলে রেখে নতুন করে মিথ্যা ঘটনার অবতারণা করে।
পরিবারটির দাবি, তদন্তের পরপর এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মূল ঘটনা আড়াল করা এবং চলমান মামলাকে জটিল করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে পরিত্যক্ত ওই খানায় টিনের শিট ফেলে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের অনিয়ম ও ত্রুটির জবাব না দিয়ে একের পর এক মামলা ও নতুন ঘটনার অবতারণার মাধ্যমে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রবাসে থাকা তরিকুল ইসলাম তোতা এবং তার স্বজনরা চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। মিস্ত্রী মামলার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রবাসী তরিকুল ইসলাম তোতার পরিবারের দাবি, প্রকৃত চুক্তিপত্র যাচাই, টাকা লেনদেনের হিসাব পরীক্ষা, নির্মাণকাজের ত্রুটি তদন্ত এবং জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এদিকে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে তদন্ত করার এক সপ্তাহ পর ঘটনাকে আরও জটিল করার উদ্দেশ্যে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত খানায় স্যানিটারি সামগ্রীর টিনের শিট ফেলে নতুন করে ঘটনা সাজানোর অভিযোগও উঠেছে। তাই ডিবির তদন্তের এক সপ্তাহ পর পরিত্যক্ত খানায় স্যানিটারি সামগ্রীর টিনের শিট পাওয়ার ঘটনাটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কথিত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও চাপ প্রয়োগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিস্ত্রি মোখলেছুর রহমান জানান, মালিক পক্ষ থেকে আমাকে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। আমার কিছু বাশ তক্তা আটকে রেখেছিল। তাই মামলা করেছি। কিন্তু ডিবি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা সরজমিনে গিয়ে কোন আলামত পাইনি। তাদের কাছে টাকা পাবো।






























