অবহেলায় বীরপ্রতীক ‘রকেট জলিলের’ কবর

বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘রকেট জলিল’ নামটি উচ্চারিত হলেই ভর করে এক অদম্য সাহস ও অবিচল প্রত্যয়ের গল্প। কিন্তু সেই কিংবদন্তি বীরপ্রতীকের কবর আজ অযত্নে পড়ে আছে এক হতাশার চিত্র হয়ে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাল্লা মোড়লপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানের এক কোণে নিভৃতে শায়িত আছেন বীরপ্রতীক মো. আব্দুল জলিল। বাঁশের তৈরি একটি ভাঙাচোরা ঘেরাই তার কবরের একমাত্র চিহ্ন। না আছে পাকা বেদি, না কোনো স্মৃতিফলক। স্বাধীনতার যোদ্ধার কবর যেন সময়ের নির্লিপ্ততায় হারিয়ে যাচ্ছে।
পারিবারিক সূত্র ও সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, একাত্তরের রণাঙ্গনে রকেট জলিল ছিলেন বীরত্বের জীবন্ত প্রতীক। একই দিনে চার- পাঁচটি অপারেশন পরিচালনার অসাধারণ সক্ষমতা দেখে পাকবাহিনী বিস্ময়ে বলতো— “রকেট হ্যায়, না কিয়া হ্যায়!”১৯৯৬ সালে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে প্রদান করা হয় ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব।
১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া আব্দুল জলিল ১৯৬৩ সালে মুজাহিদ কোম্পানিতে যোগ দেন, অংশ নেন ’৬৫ সালের যুদ্ধে। পরবর্তীতে ইপিআরে সিপাহি হিসেবে যোগদান। যুদ্ধের শুরুতেই ঝিকরগাছার দোসতিনা এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন।
ভারতের বনগাঁ হাসপাতালে গুলি বের করার পর ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় নৌকায় করে ফিরে আসেন অপারেশন টিমেকারণ তার উপস্থিতি সঙ্গীদের উৎসাহ জোগাতোরাধানগর ক্যাম্পে দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এক ঘাঁটি থেকে তিনি একের পর এক বীরত্বগাঁথা রচনা করেন।
বীরপ্রতীকের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন,যুদ্ধের সময় কোলে ছোট সন্তান নিয়ে সঙ্গীদের জন্য খাবার, অস্ত্র পৌঁছে দিয়েছি। আজ আমার স্বামীর কবরটাও কেউ ঠিকঠাক দেখল না—এটাই সবচেয়ে কষ্টের।”স্বাধীনতার এই সোনার সন্তানের কবর তিন বছর ধরে এমন অবহেলায়—এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মহলেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, রকেট জলিলের মতো বীরের কবর সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।






























