খাগড়াছড়িতে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ে মরে যাচ্ছে মৌসুমি সবজি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলাতে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ে মরে যাচ্ছে মৌসুমি সবজি। জেলার ব্যাপী সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে মরে যাচ্ছে সবজিগাছ।
প্রায় দেড় হাজার একর জমির সবজি বিবর্ণ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির শঙ্কায় প্রান্তিক চাষিরা। জেলার সবজির জনপদখ্যাত এই উপজেলার ৯০শতাংশ মানুষই কৃষিজীবী।

বছরে এই সময়ে ওই এলাকায় উৎপাদিত সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট ও নোয়াখালীতে সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু টানা বৃষ্টির ফলে ফলন্ত গাছে থাকা সবজি ও গাছ নষ্ট হয়ে যাবে। গাছ বিবর্ণ হয়ে মরে যাবে।

এদিকে মানিকছড়ি উপজেলার গোরখানা, তুলা বিল, বড়বিল, ছদুরখীল, যোগ্যাছোলা, হেডম্যানপাড়া, পানাবিল, ডাইনছড়ি, তিনটহরী উপজেলার নামাপাড়া, মধ্যপাড়া, উত্তরপাড়া, শান্তিনগর, গোদারপাড়, মহামুনি, ধর্মঘর, গচ্ছাবিল নদীর চরে সবজি চাষ হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ সুমন গুপ্ত ও অঞ্জন কুমার নাথ বলেন, উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমিই হালদা নদীর উজানে উপ-শাখায় নানা রকম সবজি উৎপাদনে সাফল্য আছে।

গচ্ছাবিলের তরুণ কৃষিবিদ মো. মোকতাদীর হোসেন বলেন, ‘এভাবে লাগাতার বৃষ্টি হলে খেতের ফল, ফুল সবই শেষ! আমার খেতের অপরিপক্ব বরবটি, বেগুন, কাঁকরোল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

তিনটহরী শান্তিনগর এলাকার প্রান্তিক কৃষক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর চরে আমার প্রায় দুই একর বর্গা জমিতে বেগুন, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, ছালকুমড়া চাষ করেছি। গাছগুলো এখনো মধ্যম বয়সী। এ অবস্থায় যেভাবে টানা বৃষ্টি চলছে, তাতে আমার বেশি ক্ষতি হবে।’

হালদার সংলগ্ন গোরখানার প্রান্তিক কৃষক মো. বেলাল হোসেন দুই বছর আগেও জমিতে তামাক চাষ করতেন। সরকারি প্রণোদনায় বেসরকারি এনজিও আইডিএফ হালদা প্রজেক্টের অধীন সবজি চাষে ফেরেন তিনি।

কৃষক বেলাল বলেন, ‘নদীর পাড় সংলগ্ন চরে আমি এক-দেড় একর জমিতে সবজি চাষ করি। এখন সেখানে বেগুন খেতে ফল আছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে আমি ফসল নিয়ে শঙ্কিত।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নিচু জমির ফসল বিবর্ণ হয়ে প্রান্তিক কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হবে। মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টির বিষয় মাথায় নিয়েই তাঁদের বেঁচে থাকতে হয়। কৃষি বিভাগ প্রান্তিক কৃষকের সুখ-দুঃখ নিয়ে কাজ করছে।’