জাবিতে সংবাদ সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১২ মে
বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক ১নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশিদুল আলম এ তথ্য জানান।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিকট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এতদবিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরেন। এসময় ট্রেজারার জানান, ১২ মে রাতের ঐ ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি-দাওয়ার আলোকে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় ১৪ টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

পূরণ করা দাবি গুলা হলো, তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, দ্রুত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নাম্বার চালুকরণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার জন্য পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা,বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও তাদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও লগবুক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু, বর্তমান ও ভবিষতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করণ।

বর্তমানে চলমান নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিকদের তথ্য প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে নিরাপত্তা শাখায় জমা প্রদান, দোকান কর্মচারীদের মালিক প্রদত্ত আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা, ক্যাম্পাস থেকে সব ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ করা, দোকান কর্মচারীদের তথ্য ডাটাবেইজ তৈরি করে আইসিটি সেলের মাধ্যমে সংরক্ষণ, প্রতিটি গেইটে দিন-রাতের শিফটে প্রহরী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাড়তি প্রহরী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে,।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল গেইট ও প্রাচীরে ত্রুটি রয়েছে তা দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করণ,আলবেরুনী হল (টিনশেড) পরিত্যক্ত ঘোষণা ও অবিলম্বে তা ভেঙে ফেলে ল্যান্ডস্ক্যাপ উন্নয়ন, বুলিং/র‍্যাগিং প্রতিরোধে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৩” সিন্ডিকেট সভায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ধর্ষণচেষ্টা ও প্রাণনাশ চেষ্টার ঘটনায় দায়ভার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর/ব্যক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়ভার নিরূপনপূর্বক সুপারিশ প্রতিবেদন প্রদানের জন্য গত ১৬ মে ২০২৬ শনিবার সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উক্ত কমিটি এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন, আসামিকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ছবি প্রকাশসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, জেলা পুলিশ, র‍্যাব, র‍্যাব সদর দপ্তর, ডিবি, পিবিআই, সিআইডি ও ডিএমপি টিমসহ বিভিন্ন বাহিনী ম্যানুয়ালি অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

এ লক্ষ্যে তারা সারাদেশে আসামির ছবি প্রচার করেছে, ঘটনার দিন আসামি কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার না করলেও তাকে ধরতে পুলিশ সাইবার টিম ও র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স উইং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে আসামি শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে।

আসামিকে গ্রেপ্তারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী আসামিকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন, সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান, ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।