তরুণ ফুটবলার বাবুর স্বাভাবিকভাবে বাঁচার আকুতি

দুঃখজনক বাস্তবতায় থমকে যেতে বসেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভাবনাময় ফুটবলারের স্বপ্ন। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কৃতি ফুটবলার বাবু—যিনি সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ঈশ্বরগঞ্জ দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ফাইনাল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন—আজ তিনি জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে।

এছাড়াও বাবু বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। কিন্তু অল্প বয়সেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় শত্রু ভয়াবহ ইনজুরির শিকার হয়েছেন এই তরুণ। খেলার সময় গুরুতর আঘাতে তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে।

বাবুর বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নে, বক্কুল মিয়ার ছেলে, তার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে, বাবু ছাড়াও তার দুই বোন আছে, পরিবারের এক মাত্র ছেলে বাবু।

চিকিৎসকদের মতে, যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার না করালে তার পা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা উপার্জন করার সক্ষমতাও হারাতে পারেন তিনি। এই অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন দুই লক্ষ টাকারও বেশি, যা তার অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

বাবুর বাবা বক্কুল মিয়া বলেন, আমার একটা ছেলেয়, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি, ছোট থেকে বাবু খেলাধুলায় ভালো তাই তারে খেলতে আমি বাধা দিছি না, কিন্তু এখন আমার ছেলে যে ইনজুরিটা হইছে এইটা ঠিক করতে অপারেশন লাগবো দুই লাখ টাকা আমি কেমনে ব্যবস্থা করবা, আপনারা আমার ছেলেটারে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার উপায়টা করে দেন।

অসহায় বাবু কণ্ঠভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার পরিবার খুবই অসহায়। দুই লক্ষ টাকা দিয়ে অপারেশন করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমি স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই, আবার মাঠে ফিরতে চাই। আমি আরও খেলতে চাই। আপনাদের সহানুভূতি আর সহযোগিতা চাই।”

আজ বাবু শুধু একজন ফুটবলার নন—তিনি একটি স্বপ্ন, একটি সম্ভাবনার নাম। সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ ও সহৃদয় সংগঠনগুলোর প্রতি আকুল আবেদন—এই তরুণের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি জীবন, একটি স্বপ্ন, একটি ভবিষ্যৎ।