নেত্রকোনার মদনে নার্সের পায়ের রগ ও হাতের কব্জি কাটল পাষন্ড স্বামী!

নেত্রকোনার মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সিনিয়র স্টাফ নার্স মারুফা আক্তারের ডান পায়ের রগ ও হাতের কব্জি কেটে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী আরিফুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় নার্স মারুফা আক্তারকে মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার রাহাতুল ইমলাম উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পৌর সভার বাড়ি ভাদেরা রোডে এমন ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পাষন্ড স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে মদন থানা পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র স্টাফ নার্স গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম যোগদান করেন। এ দিকে পাষন্ড স্বামী আরিফুল ইসলাম ঢাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে। তবে তাদের দুই জন দুস্থানে অবস্থান করায় পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। তাদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও ও রয়েছে। পাষন্ড স্বামীর বাড়ি টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলায়। মারুফা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আহত নার্স মারুফা আক্তার জানায়, আমি আজকে নাইট ডিউটি করে বাসায় যাই। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুপার ভাইজার অসীমা আমার নামে আমার স্বামীর নিকট উল্টা পাল্টা কথা বলে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া ক্ষোভ সৃষ্টি করায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি তাও বলে আমি কি বলেছি যদি স্যারকে বিষয়টি জানাই তা হলে তোর স্বামীর নামে আমি ধর্ষণ মামলা দায়ের করব। অসীমার সকল কথাবার্তা আমাদের ফোনে রেকর্ডও আছে। উনার এমন কথাবার্তীয় আমার স্বামী মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে । পরে আমার স্বামীকে বলি তুমি এখান থেকে চলে যাও । দুই মাস পরে বাসায় আস। এ নিয়ে দু’’জনের মধ্যে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে আমার স্বামী পায়ে ও হাতে চুড়ি মারে। এতে ডান পায়ের রগ ও হাতের কব্জি কেটে যায়।
পাষন্ড স্বামী

আরিফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছে। মারুফা আক্তার কোন কথা না শুনায় এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে নার্সিং সুপার ভাইজার অসিমা বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূরুল হুদা খান জানান, আমি এসে এ ব্যাপারে তদন্ত করব। নার্সিং সুপার ভাইজারের অসীমার ব্যাপারেও তদন্ত করব। ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমরা তার সাথে আছি।

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।