নেত্রকোনার মদনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিশোরীকে অন্ত:সত্তার অভিযোগ

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রী অন্ত:স্বত্তার হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন থানায় মেয়েটি মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই মাদ্রাসায় আশেপাশে এলাকার মেয়েরা লেখা পড়া করে।
একই এলাকার বাসিন্দা স্বামী বিধবা মহিলার একমাত্র মেয়ে ওই কিশোরী। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কিশোরীর মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী নানীর কাছে থেকে ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন। এর মধ্যে গত বছর নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনা কাউকে না জানাতে প্রাণনাশে ভয় দেখায় শিক্ষক সাগর। পরে তার আরেক শিক্ষককে বলে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর কিশোরী মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। সন্দেহ হলে মেয়েটির মা সিলেট থেকে মায়ের বাড়িতে আসে এবং কিভাবে সে অন্ত:সত্তা হল তা জানতে তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাগরের দ্বারায় ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে তার মাকে জানায়।
ঘটনাটি জেনে শিশুটির মা এলাকায় আসেন বিচার চাইতে। আমান উল্লাহ সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের হুমকি দেয়া এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা মদন থানায় শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে মেয়েটি মা জানায়, আমি গরীব মানুষ । আমি সিলেটে কাজ করে খাই। আমার মেয়েকে মহিলা মাদ্রাসায় নিরাপদের জন্য দিয়ে ছিলাম। আর আজ আমার মেয়ে অন্ত:সত্তা । আমি এ বিষয়ে মামলা করব এবং ন্যায় বিচার চাই। আমার মেয়ের মত যেন আর কেহ এমন অবস্থা না হয়।
এ বিষয়ে মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, এ ব্যাপারে মেয়েটির মা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।






























